Collector
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ঈদ যাত্রায় বিপত্তির কারণ থ্রি-হুইলার | Collector
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ঈদ যাত্রায় বিপত্তির কারণ থ্রি-হুইলার
Somoy TV

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ঈদ যাত্রায় বিপত্তির কারণ থ্রি-হুইলার

আসন্ন ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটিতে সড়ক পথেই দক্ষিণাঞ্চলে ফিরবেন কয়েক লাখ মানুষ। তবে ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল এবং সড়কের অপ্রশস্ততা নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এর ওপর কোরবানির পশুর হাট যদি মহাসড়কের পাশে বসে, তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।সরেজমিনে দেখা যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের সামনে হুট করেই চলে আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ভ্যান। আবার কোথাও বেখেয়ালীভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। ​হাইওয়ে পুলিশ গৌরনদী ও দুমকি ফাঁড়ির দেয়া তথ্যমতে, ভুরঘাটা থেকে পটুয়াখালী সদর পর্যন্ত মহাসড়কটির মাত্র ১০০ কিলোমিটারে গত ২৪ মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১০০ জন। আর পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা গুরুতর আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে হাজারের বেশি। যার মধ্যে ২০২৪ সালে ৩৩ জন, ২০২৫ সালে ৩৬ জন ও ২০২৬ সালের ২০ মে পর্যন্ত ২৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মহাসড়কের দূরপাল্লার বাস চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'এমনিতেই রাস্তা অনেক জায়গায় অপ্রশস্ত, তার ওপর বেপরোয়া গতিতে চলে থ্রি-হুইলার। কখন যে কার সামনে চলে আসে বলা যায় না। ঈদের সময় যদি রাস্তার পাশে অস্থায়ী গরুর হাট বসে, তবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা চাই মহাসড়ক পুরোপুরি থ্রি-হুইলার ও হাটমুক্ত রাখা হোক।' আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে চিকিৎসালয়গুলোতে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) অর্থপেডিক্স বিভাগের তথ্যনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগে ভর্তি পটুয়াখালীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, 'পরীক্ষা দিতে বের হয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানোবস্থায় একটি অটো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। তার পায়ের মাঝখান থেকে ভেঙে গিয়েছে। অনিশ্চয়তায় পরেছে জীবন।' সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে টেকসই এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্ট'-এর বরিশাল বিভাগের মেন্টর রনজিৎ দত্ত বলেন, 'শুধু ঈদের সময় সাময়িক তৎপরতা দেখালে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরবে না। থ্রি-হুইলার বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং চালক-পথচারীদের সচেতনতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্যথায় এই মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না।' সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, 'যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুবিধার্থে মহাসড়কের দুই পাশ বর্ধিতকরণের কাজ চলমান রয়ছে। কিছু কিছু স্থানে কাজ শেষও হয়েছে। তবে ঈদের আগেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর কাজ শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে, যাতে যানজট ও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।' আরও পড়ুন: ১০ টাকার জন্য লাইনম্যানের হামলায় আহত সেই চালকের মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ​'ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই কোরবানি পশুর হাট বসানোর কোনো সুযোগ নেই। এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণেও হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।'

Go to News Site