Collector
ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে আলোচনায় ৩৫ মণের ‘সাদা ময়না’ | Collector
ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে আলোচনায় ৩৫ মণের ‘সাদা ময়না’
Jagonews24

ময়মনসিংহে কোরবানির হাটে আলোচনায় ৩৫ মণের ‘সাদা ময়না’

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে গ্রামগঞ্জের পশুর হাট। এরই মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের চকরাধাকানাই গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড় গরু। ‘সাদা ময়না’ নামের এই গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। সাদা-কালো রঙের ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালদেহী ষাঁড়টি এখন পুরো এলাকায় যেন এক অঘোষিত সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছে। গরুটির মালিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও খামারি মো. নুরুল কাইয়ুম স্বপন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি পশুপালনের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে যত্ন নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সাদা ময়না’কে। খামারি স্বপন জানান, পরিবারের সদস্যের মতো করেই গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বাড়ির উঠোনেই বড় হয়েছে ‘সাদা ময়না’। গায়ের রং সাদা-কালো হওয়ায় পরিবারের সদস্যরাই আদর করে এই নাম রেখেছেন। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে ৯ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং শরীরের গোলাকার পরিমাপ ৮ ফুটেরও বেশি। বিশাল আকৃতির কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্বপন বলেন, জন্মের পর থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করেছি। কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত পরিচর্যা আর পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে এসেছে ‘সাদা ময়না’। তিনি বলেন, প্রতিদিন দুইবার গোসল করানো হয় গরুটিকে। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় প্রায় ১০ কেজি গুঁড়া ভূসি, ৫ কেজি খড় ও ৫ কেজি কচি ঘাস। শুধু খাবারের পেছনেই প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া গরমের সময় গরুটির আরামের জন্য গোয়ালঘরে ২৪ ঘণ্টা সিলিং ফ্যান চালু রাখা হয়। স্বপনের ছেলে ইমাম মেহেদী বলেন, গরুটি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। ছোটবেলা থেকেই আমরা খুব যত্ন করে বড় করেছি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ানো, হাঁটানো ও গোসল করানোর পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, ঈদ সামনে আসায় এখন গরুটিকে দেখতে মানুষের ভিড় আরও বেড়েছে। এলাকার শিশু-কিশোরদের কাছেও ‘সাদা ময়না’ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গরুটির মালিক বলেন, গত কোরবানির ঈদেও ‘সাদা ময়না’ বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল। সে সময় গরুটির দাম উঠেছিল প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা। তবে ১০ লাখ টাকার কমে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গরুটি বিক্রি করা হয়নি। এবারও একই প্রত্যাশা নিয়ে ঈদের বাজারে ‘সাদা ময়না’কে তুলতে চান তিনি। স্বপন বলেন, এটা শুধু একটা গরু না, আমার দীর্ঘদিনের শ্রম-ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ফল। আশা করছি এবার কেউ এর সঠিক মূল্য দেবেন। যিনি গরুটি কিনবেন, তার জেলার যেখানেই হোক না কেন, নিজ খরচে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করবেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষায়, ঈদের আগে ‘সাদা ময়না’ এখন পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুটিকে এক নজর দেখতে মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকছে। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়কে ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা। হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এএসএম

Go to News Site