Jagonews24
টানা তিন দিন ধরে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি, কেরানীগঞ্জ ও হাজারীবাগের গরুর হাট চষে বেড়াচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবুজ্জামান। গত বছর হাসিলসহ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পছন্দসই গরু কিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু এবার বাজেট আরও ২০ হাজার টাকা বাড়িয়েও গতবারের মতো গরুই মেলাতে পারছেন না। সাদমান গত বছর যে গরুটি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন, একই সাইজের গরুর দাম এবছর তিন লাখ টাকা হাঁকছেন বেপারিরা। দেড় লাখ টাকা থেকে দামাদামি শুরু করলে বেপারিরা মুচকি হেসে বলেন, ‘বাজার ঘুরে দেখেন না কেন?’ শেষ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা দাম বললেও বেপারি গরু ছাড়তে নারাজ। উল্টো সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, ‘আমার এখান থেকে কিনবেন কেন, অন্য কারও কাছ থেকে এ দামে পেলে নিয়ে নেন।’ সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে সাদমান বলেন, ‘সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে দিয়াবাড়ি ও হাজারীবাগের হাটে ঘুরে এইমাত্র বাসায় এলাম। বাজারে প্রচুর গরু, কিন্তু বেপারিরা দামে ছাড় দিচ্ছেন না। অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। আমরা দাম বললে তারা মুচকি হাসেন। বুঝতে পারছি না গরুর দাম শেষ পর্যন্ত এরকমই চড়া থাকবে কি না।’ রাজধানীর বিভিন্ন হাটে পর্যাপ্ত গরুর সরবরাহ থাকলেও বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। বাজারে ক্রেতারা এলেও দামে বনিবনা না হওয়ায় এখনো তারা ঘুরে ফিরে দেখছেন। বিক্রেতারাও দরদাম চেয়ে ক্রেতাদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। এরই মাঝে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দামের মধ্যে কিছু গরু বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গাজি সালাহউদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় বাবা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে শাহজাহানপুর গরুর হাটে যান। আলাপকালে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গরুর দাম গতবারের চেয়ে বেশিই মনে হচ্ছে। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর থেকে বেপারিরা গরুর দাম কিছুটা কমিয়ে বলছে। তবে গতবারের বাজেটের চেয়ে এবার ২০-৩০ হাজার টাকা বেশি দাম দিয়ে কিনতে হতে পারে। ঢাকার আশকোনার বাসিন্দা নুরুল আলম লিটন প্রতি বছর জোড়া গরু কোরবানি দেন। গতবার চার লাখ টাকায় দুটি গরু কিনতে পারলেও একই সাইজের গরু এবার বেপারিরা পাঁচ লাখের বেশি দাম চাইছেন বলে জানান তিনি। ঢাকায় যারা নিয়মিত কোরবানি দেন সেই পরিবারের শিশুরা গরুর বাজার থেকে অভিভাবকদের ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। গরুর হাটে থাকা অবস্থায় কয়েকবার মোবাইল ফোনে প্রশ্ন করে জানতে চায় গরু কিনতে পেরেছে কি না। আজিমপুরের বাসিন্দা ভিকারুন নিসা নুন স্কুলের শিক্ষার্থী নুসাইবা জামান সোমবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, শুধু তিনি নন, তার বান্ধবীদের বাবা ও ভাইয়েরা হাটে গিয়ে গরু কিনতে পারছেন না। বাজারে অনেক গরু থাকলেও দামে বনিবনা হচ্ছে না। বান্ধবীরা একে অন্যকে ফোন করে বলছেন, ‘দোস্ত বাজারে গরু অনেক, কিন্তু দামে মিলছে না। বেপারিরা দাম ছাড়ছেন না।’ ক্রেতাদের ধারণা, ঈদের আগের দুদিন মঙ্গল ও বুধবার হাটে কোরবানির পশু বিক্রি যেমন বাড়বে, দামও কিছুটা কমতে পারে। এমইউ/এমকেআর
Go to News Site