Somoy TV
বরিশাল বিভাগের কোনো সরকারি হাসপাতালেই নেই শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা পেডিয়াট্রিক আইসিইউ (পিআইসিইউ) সুবিধা। এমনকি বিভাগের সবচেয়ে বড় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালেও আজ পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটটি। ফলে শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরঞ্জামের ঘাটতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘হেডবক্স’ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করছেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সমাধান মিললেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে রোগীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিয়ে।সরজমিনে শেবাচিম হাসপাতালের তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডের গিয়ে দেখা যায়, এক কোনো অনবরত কান্না করছে বরিশালের উজিরপুরের বাসিন্দা রুমা বেগমের সাত মাসের শিশু রুমাইশা। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বেড়ে গেলে শিশুটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা পাঠানোর পরামর্শ দেন।ওই শিশুটির মা রুমা বেগম বলেন, ‘ডাক্তাররা কইছে আমার মাইয়াডারে বাঁচাইতে হইলে জরুরি আইসিইউ লাগবো। কিন্তু এইহানে নাকি কোনো আইসিইউ নাই। ঢাকা নিয়া যাইতে কয়, কিন্তু ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালেও যোগাযোগ কইরা কোনো খালি সিট পাই নাই। এহন এই প্লাস্টিকের বাক্সের (হেডবক্স) অক্সিজেন দিয়াই আল্লার ওপর ভরসা কইরা থাহা লাগতাছে।’পটুয়াখালী থেকে আসা আরেক শিশুর বাবা লোকমান মিয়া বলেন, ‘বিভাগের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে আইলাম একটু ভালো চিকিৎসার আশায়। এহন ডাক্তাররা কয় ঢাকায় যাইতে। আমাগো মতো গরিব মাইনষের ঢাকায় গিয়া চিকিৎসা করার সাধ্য কই?’আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ মেডিকেলে এখনও চালু হয়নি শিশুদের আইসিইউ, বাবল সিপ্যাপই ভরসাএ দিকে বর্তমানে ঠাণ্ডাজনিত রোগ আর হামের সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে গুরুতর শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি শিশুর আইসিইউর জরুরি প্রয়োজন পড়লেও পাঠাতে হচ্ছে ঢাকায়।এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে ঠাণ্ডা, নিউমোনিয়া ও হামে আক্রান্ত গুরুতর শিশু রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতিদিন অনেক শিশুরই আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু আইসিইউ না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে প্লাস্টিকের তৈরি হেডবক্স দিয়ে তাদের অক্সিজেন ও শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখার চেষ্টা করছি। এটা সাময়িক সমাধান হলেও আইসিইউর বিকল্প কখনোই নয়। অনেক সময় রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করতে হয়।’আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ফের চালু হচ্ছে সরকারি দুই হাসপাতালের আইসিইউশেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ পেডিয়াট্রিক আইসিইউর জন্য যে ধরনের বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, তহবিল এবং জনবল প্রয়োজন, তা আমাদের এখানে এখনো সংকুলান করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ স্বাস্থ্য সহকারী জিয়া উদ্দিন হায়দার পরপর দুবার হাসপাতালটি ভিজিট করেছে। শিশু আইসিইউ তৈরির জন্য আলোচনাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম বলেন, ‘পুরো বরিশাল বিভাগের কোনো সরকারি হাসপাতালেই শিশুদের আইসিইউ সুবিধা নেই। তবে এই সংকট দূর করতে সরকার আন্তরিক। বরিশালে নবনির্মিত বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটিতে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ পেডিয়াট্রিক আইসিইউ (পিআইসিইউ) ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া চলছে। এটি চালু হলে আশা করি বিভাগের শিশুদের এই চিকিৎসাসংকট অনেকটাই কেটে যাবে।’শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ঠান্ডাজনিত রোগ ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১৩২টি শিশুর; যার মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৮, ফেব্রুয়ারিতে ২৬, মার্চে ৪২ ও এপ্রিল মাসে ৪৬ জন। আর হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১ হাজার ৪১১ জন।
Go to News Site