Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। ভোগান্তি নিয়েই আনন্দ-যাত্রা - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারি বৃষ্টিতে টার্মিনাল পর্যন্ত যেতেই বিপর্যস্ত যাত্রীরা। কষ্ট করে পৌঁছানোর পর বাসের দেখা নেই। মিলছে না পর্যাপ্ত গণপরিবহণ। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর যেসব বাস পাওয়া গেছে, সেখানে বাড়তি ভাড়ার চাপ। জনপ্রতি ৫০ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বেশির ভাগ বাসে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমজীবীসহ সাধারণ যাত্রীদের অনেকে। এসব নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে। আবার যারা আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাদের অনেকেই পড়ছেন শিডিউল বিপর্যয়ের অস্বস্তিতে। অন্যদিকে অনেক বাস ও ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ওইসব বাস ও ট্রেনের যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে টিকিট থাকার পরও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে ছিল থেমে থেমে যানজট। পথে পথে এমন ভোগান্তির পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উৎসব করতে বাড়ি গেছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঈদের আগে ভোগান্তি সত্ত্বেও যাদের কাছে বাড়ি যেতে পারাই হচ্ছে বড় এক আনন্দযাত্রা। সরেজমিন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে সোমবার এমনই চিত্র দেখা গেছে।২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগেও উত্তরের পথে যানজটের শঙ্কা - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয় ২০২২ সালে। এতে খরচ হয়েছিল ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। টাঙ্গাইল থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়কটিতে চার লেনের উন্নয়নকাজ শেষের পথে। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। এ দুই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও ঈদযাত্রায় যানজট পিছু ছাড়ছে না ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে। ঈদুল ফিতরের মতো এবার ঈদুল আজহার যাতায়াতেও যানজটের ভোগান্তিতে পড়ছেন উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা। গতকাল দুপুরের পর থেকে মহাসড়কটির কড্ডা-চন্দ্রা এবং চন্দ্রা-নবীনগর অংশে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট দেখা দেয়। আজ গাজীপুর অঞ্চলের শিল্প-কারখানা ছুটি হলে ঘরমুখী মানুষের চাপে এ যানজট তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।আনন্দের ঈদযাত্রা সড়কেই শেষ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে ২৫ জনের মতো যাত্রী। সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। ভাড়া কম বলে উত্তরবঙ্গগামী রডবোঝাই একটি ট্রাকে উঠেছিলেন তারা। কষ্টের যাত্রা হলেও সবার মনে ছিল আনন্দ। উন্মুখ ছিলেন বাড়ি ফিরে আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। কিন্তু ভোররাতে ট্রাক উল্টে ঈদের আনন্দযাত্রা সড়কেই শেষ। ঝরে গেছে ১৫ জনের প্রাণ। এর মধ্যে ১০ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল সোমবার ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যোকারচর ১৮ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের যাত্রীরা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ফেনী, চট্টগ্রামসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রডবোঝাই ট্রাকের ছাদে করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলে।ভাড়া বাঁচাতে গিয়ে জীবন বাঁচাতে পারেনি ওরা - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় মিলেছে। কাজ শেষে হতাহতরা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘুমন্ত অবস্থায় চালক ব্রেক কষার ফলেই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ভাড়া বাঁচাতেই জীবন বিলিয়ে দেয় তারা। নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ট্রাকের যাত্রী ও স্থানীয়রা জানান, ট্রাকটিতে চট্টগ্রামের অলংকার থেকে বেশ কয়েকজন যাত্রী কম ভাড়ায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে ফেনী থেকে আরও বেশ কয়েকজন ওঠেন। ভোর ৪টার দিকে ট্রাকটি ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের জোগারচর এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি উল্টে যায়। এতে রড ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। পরে পুলিশ সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ও নিহতের উদ্ধার করেন।মহাসড়কে যানবাহনের চাপ, ধীরগতি - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার ছুটির প্রথম দিন রাজধানী থেকে ঘরমুখী মানুষের চাপে বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এতে কোনো কোনো সড়কে দেখা দেয় যানজট। কোথাও কোথাও আবার যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হয় ধীরগতি। ঈদযাত্রায় যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ছয়-সাত কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।ঈদের ছুটিতে হামের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি।ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ব্যাপক যাতায়াত ও ভ্রমণের কারণে ঈদের পর হামের সংক্রমণ তীব্র আকার নিতে পারে। সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করে এ আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আক্রান্ত শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঈদের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে ঈদযাত্রা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এদিকে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দ্বিতীয়বার সর্বোচ্চ আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
Go to News Site