Jagonews24
ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে কালিয়াকৈর এর চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাসে বাড়তি ভাড়া নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই যানজট অব্যাহত ছিল। এছাড়া ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে থেমে থেমে বিভিন্ন জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী অবস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গাজীপুর মহানগরীর ৪৫ ভাগ পোশাক কারখানা ছুটি হয়। বিশেষ করে কারখানা ছুটি হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনে যাওয়ার জন্য ঢাকা টাঙ্গাইল ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসস্ট্যান্ড গুলোতে অবস্থান নিচে থাকে যাত্রীরা। বিকেলে এবং রাতে কয়েকবার বৃষ্টির কারণে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করে। যার কারণে রাতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও ক্রমশ তা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে। এছাড়া মঙ্গলবার ভোরে বৃষ্টি হলে স্যার বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় যানজট বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারছে না। অপরদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরীর চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট অব্যাহত থাকে। গাজীপুর থেকে রংপুরগামী যাত্রী ইসরাফিল হোসেন জানান, ভোর ৪ টায় তিনি গাজীপুর ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টায় চন্দ্রা পার হতে পেরেছেন। অপরদিকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী শামীম হোসেন বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা পার হতে পারলেই ময়মনসিংহ যেতে আর কোথাও যানজটে পড়তে হচ্ছে না। তবে রাস্তায় অনেক যাত্রী। বাসগুলো ঘনঘন স্টপেজ দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বাসের ও যানবাহনের জটলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এিমোড় এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। রয়েছে গণপরিবহণের ব্যাপক চাপ দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি । এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে চন্দ্রা এলাকা জুড়ে যাত্রী ও গণপরিবহনের ব্যাপক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রংপুর, বগুড়া যাত্রী আবির, সিয়াম, রাসেল জানান, সব ঈদের আগে গাড়িতে ভাড়া বেশি দিয়ে বাড়ি যেতে হয়। নতুন কিছু না। গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল এই দুই মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল দেখে সুযোগ বুঝে পরিবহনে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, সফিপুর, পল্লীবিদুৎ, চন্দ্রা, খাড়াজোড়া, বাইমাইল এলাকায় যাত্রীদের চাপ বেশি।সকাল থেকেই দুই মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ শুরু হয়। এরমধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। মহাসড়কে যানবাহনের সঙ্কট না থাকলেও পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। রপ্তানি হতে চন্দ্রার নিয়মিত ভাড়া ২০-৩০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। টাঙ্গাইলের ভাড়া ৫০০ টাকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানের ভাড়া এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামগামী যাত্রী আবুল হাসান বলেন, আমি সাভারে রপ্তানিতে চাকরি করি। দুপুরে বাসে উঠি, রাস্তাঘাটের খুব খারাপ অবস্থা, যানজট। একদিকে যানজট, অপরদিকে অধিক ভাড়ায় যাত্রীরা অতিষ্ঠ। সাভারের রপ্তানি হতে চন্দ্রার ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু আজকে ১৫০ টাকা নিল। চন্দ্রায় এসে দেখি, গাড়ি যেন অচল হয়ে পড়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কেও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ থেকেও যাত্রীরা গাজীপুর হয়ে বাড়ি ফিরছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, বোর্ড বাজার, ভোগরা, চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও মাওনা এলাকায় যাত্রীর চাপ রয়েছে। রংপুরের বাস কাউন্টারের ম্যানেজার বাচ্চু সরকার বলেন, আমাদের কাউন্টার থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। ঈদের আগে বিভিন্ন সময়ে মূল ভারার চাইতেও ২০০-৩০০ টাকা করে কম নিয়েছি। ঈদের সময় আর কম নেওয়া হয় না। যার কারণে অনেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। পরিবহন শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, কাউন্টার থেকে যে সব বাস ছেড়ে যায় তারা কেউই অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছেন না। আউটের যে সব গাড়ি আছে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাসে তোলেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। আমরা সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করি এবং নিজেরাও তাদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া থেকে নির্বৃত্ত রাখার চেষ্টা করি। নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, ভাড়া বেশি নিচ্ছে এরকম কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা মাঠে আছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া চন্দ্রা এলাকাজুড়ে ১ হাজার ২০০ শত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা মাঠে কাজ করছে। মো. আমিনুল ইসলাম/এনএইচআর/জেআইএম
Go to News Site