Somoy TV
অপরিকল্পিত বিআরটি প্রকল্পের কারণে এবারের ঈদযাত্রা পরিণত হয়েছে চরম দুর্ভোগে। মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই লাগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন বাস্তবতায় প্রকল্পটি নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।বছরজুড়ে যানজটের ভোগান্তি পোহানো গাজীপুরবাসীর কাছে নতুন আতঙ্ক এখন ঈদযাত্রা। ঈদ এলেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার অংশ যেন পরিণত হয় এক ভয়াবহ দুর্ভোগে। অল্প এই পথ পারি দিতেই সময় লাগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মহাসড়ক থেকে বিআরটি লেনে ঢোকার পথেই শুরু হচ্ছে যানজট। সেখান থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা। এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রতিটি প্রবেশপথেই একই চিত্র দেখা গেছে। মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপিত অবকাঠামোকে অনেকেই ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন। দুই লেনের জায়গা দখল করে তৈরি স্টপেজগুলো উল্টো যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অপরিকল্পিত এই সড়ক এখন ঘরমুখো মানুষের কাছে গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক করেও এখনো প্রকল্পটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকার। আলোচনায় আছে, প্রকল্পটি ভেঙে সাধারণ সড়কে রূপান্তর করা হবে কি না। আবার চালু রাখতে চাইলে ব্যয় হবে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে ঈদের পর। আরও পড়ুন: বিআরটি প্রকল্পে আরও ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনাধীন: পরিবহনমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দুটি বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করছি। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা যাচাই-বাছাই শেষে আমাদের জানাবে কোনটা ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয় সড়কটিকে ব্যবহার উপযোগী করে কাজে লাগানোই ভালো। ঈদের পরই আমরা সিদ্ধান্তে আসবো। বিআরটি প্রকল্পের এই ব্যর্থতার আশঙ্কার কথা অনেক আগেই জানিয়েছিল গাজীপুর সিটির মাস্টারপ্ল্যানের দায়িত্বে থাকা ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) বিশেষজ্ঞ দল। তাদের পরামর্শ ছিল, ভাঙচুরের নামে অপচয় না করে বরং সড়কটিকে মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা হোক। ডুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা শুরু থেকেই সড়কটির ব্যর্থতার বিষয়ে সরকারকে জানিয়েছি। কিন্তু তা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এখন আর অপচয় না করে কীভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে ভাবা উচিত। ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে এক যুগের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি গাজীপুরবাসী। এরই মধ্যে ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এমন বাস্তবতায় নতুন সিদ্ধান্তের আগে যাচাই-বাছাই ছাড়া যারা রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
Go to News Site