Jagonews24
গলায় মোটা চেইন। বিশাল দেহের ষাঁড়। সামনে ঝুলছে ‘কমিশনার’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এমন ব্যতিক্রমী নাম আর আকারের কারণে পশুর হাটে ক্রেতা-দর্শনার্থী নজর কেড়েছে। ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন সার্কিট হাউজ মাঠের কোরবানির পশুর হাটে বিশাল আকৃতির এই ষাঁড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির কালো রঙের ষাঁড়টি ঘিরে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার দাম জানতে ভিড় করছেন খামারির কাছে। ষাঁড়টির মালিক নগরীর ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল। তার খামার রয়েছে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা এলাকায়। সেখানে আরও ১৫ থেকে ২০টি গরু পালন করছেন তিনি। জুয়েল জানান, এবারের হাটে তিনি তিনটি ষাঁড় এনেছিলেন। এর মধ্যে ‘মটু’ ও ‘চমচম’ নামে দুটি গরু ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। আর ‘কমিশনার’-এর দাম হাঁকছেন ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পেলেই বিক্রি করে দেবেন। ব্যতিক্রমী নাম রাখার কারণ জানতে চাইলে খামারি বলেন, গরুটার স্বভাব একটু অলস। খাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময় শুয়ে-বসে থাকে। তাই মজা করেই নাম রেখেছি কমিশনার। তিনি আরও জানান, তিন বছর ধরে গমের ভুসি ও ঘাস খাইয়ে গরুটি লালনপালন করেছেন। মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ, ইনজেকশন কিংবা বিশেষ ফিড ব্যবহার করা হয়নি। খামারি মো. জুয়েল বলেন, কমিশনারের এখন পর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখ টাকা দাম উঠেছে। সাড়ে ৫ লাখ হলে বিক্রি করে দেব। সঙ্গে আনা আরও দুইটা গরু সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে বিক্রি করেছি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলায় এবারের ঈদ উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ১৪৮টি। এর বিপরীতে জেলার চাহিদা ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৭টি গরু। এছাড়া রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬৬টি ছাগল, ৫ হাজার ৩৪৪টি ভেড়া এবং ৮৮৬টি মহিষ। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, ঈদকে ঘিরে বড় চ্যালেঞ্জ থাকে। মাঠপর্যায়ের সহকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। পুরো জেলার জন্য ৫৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা হাটগুলোতে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, দেশে পর্যাপ্ত কোরবানিযোগ্য পশু থাকায় বাইরে থেকে যেন অবৈধভাবে পশু প্রবেশ না করে, সে বিষয়েও আমরা তৎপর রয়েছি। আমরা চাই খামারিরা যেন ন্যায্য দাম পান। এদিকে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা ও হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসনও। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোরবানির পশুবাহী গাড়ি যাতে কোথাও আটকে না থাকে কিংবা হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য আমরা তৎপর রয়েছি। পাশাপাশি জাল টাকা ও অপরাধী চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এমএস
Go to News Site