Jagonews24
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে প্রচুর পশু আমদানি হয়েছে। তবে বেচাকেনা শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। একদিকে পশুর চেয়ে ক্রেতা কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী দাম মিলছে না। অন্যদিকে, ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে শেষ দিনের পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। যশোরের বিভিন্ন পশুহাটে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুহাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এ হাটে প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। কেউ গরু ও ছাগলের দড়ি হাতে ক্রেতার অপেক্ষায়, আবার কেউ খুঁজছেন পছন্দমতো পশু। ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ পশুর হাটে পর্যাপ্ত গরু নিয়ে খামারি ও বিক্রেতারা আসছেন। গেল কয়েকটি হাটে ক্রেতার চাপ কম থাকলেও শেষ দুদিনে বেচাকেনা বাড়বে। তবে ঝড়বৃষ্টির কারণে দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। গরু ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন জানান, এবার হাটে গরুর সরবরাহ ভালো। সবে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন আবহাওয়া চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকলেও বড় গরুর ক্রেতা খুব কম। অনেকেই বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে ছোট গরু কিংবা ছাগলের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে ছাগলের বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ধীরগতিতে। দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের অনেক হিসাব-নিকাশ করে কিনতে দেখা গেছে। খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর যে গরু এক লাখ বা তার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, এবার সেই গরুর দাম ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার বেশি উঠছে না। অনেকেই দাম শুনেই চলে যাচ্ছে। শেষ দুদিনেই বেচাবিক্রি বেশি হয়। এরই মধ্যে বৃষ্টি-বাদলায় যদি বেচাকেনা পড়ে যায় তাহলে মাথায় হাত উঠবে। অভয়নগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওয়াপাড়া গরুর হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় এবং রেকর্ড পরিমাণ গবাদিপশু বিক্রি লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের আগে শেষ দুদিনেও ভালো বিক্রির আশা করছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। এই হাটে পশুর প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। তবে ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ দেশি জাতের মাঝারি আকারের গরু। যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, যশোর জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে ২২টি হাটে পশু বিক্রি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হাটে ক্রেতা তুলনামূলক কম। এছাড়া ঈদের আগে শেষ দুদিনেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। এ সময়েই আবহাওয়ার বৈরী অবস্থায় কৃষক ও খামারিরা দুশ্চিন্তায় আছেন। শেষ সময়ে পশুর চেয়ে ক্রেতা কম থাকলে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সবাই নির্বিঘেœ কেনাবেচা করতে পারেন। মিলন রহমান/এএইচ/এমএস
Go to News Site