Somoy TV
বজ্রপাতে কক্সবাজার ও ভোলা জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে কক্সবাজারে জান্নাত ওরফে মুন্নী (১৯) নামে এক গৃহবধূ এবং ভোলায় সজিব (২৫) নামে এক জেলে মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে এসব ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের টেকপাড়া এলাকায় বজ্রপাতে গৃহবধূ মুন্নী মারা গেছেন। তিনি ওই এলাকার মোহাম্মদ ছাদেকের স্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই এলাকাটিতে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাকিবা জান্নাত তার বসতঘরের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ভোলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. সজিব (২৫) নামের এক জেলে নিহত হয়েছে। তিনি উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সামছল হকের ছেলে। নিহতের চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে মাছ ধরতে নদীতে যান সজিব। এ সময় হঠাৎ চতুর্দিকে অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন সজিব। অন্য জেলেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন: নওগাঁয় এক কাতারে ৬ যুবকের জানাজা, হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম শাওন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, সকালের কালবৈশাখী ঝড়ে ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০টি ঘরবাড়ি ও পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তারা দোকানে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল তুলেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালের দিকে হঠাৎ করে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দোকানঘরগুলো ভেঙে পড়ে এবং অনেক মালামাল পাশের নদীতে ভেসে যায়। স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক মনপুরার রামনেওয়াজ ও তুলাতুলি এলাকায় দোকানপাট এবং ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রামনেওয়াজ ঘাটের পাঁচটি দোকান একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের দোকানঘর ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে তুলাতুলি বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ে স্থানীয়দের ঘরবাড়িও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০টি ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। মনপুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুসা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Go to News Site