Collector
ট্যানারিতে বাকি ৫ কোটি: গাইবান্ধার চামড়া ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার | Collector
ট্যানারিতে বাকি ৫ কোটি: গাইবান্ধার চামড়া ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার
Somoy TV

ট্যানারিতে বাকি ৫ কোটি: গাইবান্ধার চামড়া ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসায় দুশ্চিন্তায় গাইবান্ধার চামড়া ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করে লবণের বাড়তি দাম আর ট্যানারি মালিকদের কাছে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা কোটি কোটি টাকার বকেয়া থাকায় পুঁজি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় আড়তদারেরা।উত্তরের সর্ববৃহৎ চামড়ার হাট পলাশবাড়ী হাটের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে ট্যানারিতে। দীর্ঘদিন ধরে বাকি পড়ে থাকা টাকার জন্য ধর্না দিয়েও ট্যানারি মালিকরা বছর পর বছর ধরে সেই টাকা পরিশোধে টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় আড়ৎদার ও পাইকারেরা বলছেন, কোরবানির ঈদে মাঠ পর্যায়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ নগদ টাকায় চামড়া কিনতে হয়। এরপর শ্রমিক ও লবন খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে সেই চামড়া সংরক্ষণ করতে হয়। তারপর চামড়া বাকিতে তুলে দিতে হয় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের হাতে। কিন্তু পণ্য হস্তান্তরের পর বছরের পর বছর পার হলেও বকেয়া টাকা ফেরত পান না আড়তদাররা।গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চামড়া হাটের ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, শুধু এই অঞ্চলেই ট্যানারি মালিকদের কাছে ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিনু মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৯ সালে ট্যানারি কোম্পানিগুলোর কাছে দেড় কোটি টাকারও বেশি বাকি পড়ে আছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ৭ বছর ধরে ঘুরছি। তারা শুধু আজ দেব, কাল দেব বলে টালবাহানা করছে। অনেক সময় ট্যানারিতে গিয়ে বসে থেকে ঘুরে আসতে হয়, ট্যানারি মালিকরা দেখা পর্যন্ত করে না।’আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় নজর কাড়ছে ‘লাল বাহাদুর’ ও ‘পাহাড়ি পালোয়ান’বকেয়া আদায়ের এই দীর্ঘসূত্রতার মধ্যেই চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান উপাদান লবণের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ওপর যোগ হয়েছে লেবার বা শ্রমিকের বাড়তি মজুরি। ব্যবসায়ীদের দাবি, চামড়া কেনার পর লবণের খরচ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও বিক্রির সময় সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না।চামড়া একটি পচনশীল পণ্য হওয়ায় ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকিতে বিক্রি করা ছাড়া আড়তদার বা পাইকারদের বিকল্প কোনো উপায় থাকে না। এই সুযোগেরই অপব্যবহার করছেন বড় বড় ট্যানারি মালিকরা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আফতাব হোসেন মোল্লা্ বলেন, এই খাতকে বাঁচাতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি চুক্তি বা ফরম পদ্ধতি চালু করা উচিত। যেখানে ৩০ বা ৪০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে, যাতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের টাকা লুটপাটের কোনো সুযোগ না থাকে। অবশ্যই সরকারকে এমন উদ্যোগ নিতে হবে- যাতে প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা- চামড়া শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ অর্থাৎ তৃণমূলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সবল রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। আড়তদাররা যাতে কোনো আর্থিক সংকটে না পড়েন, সে ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।উল্লেখ্য, ঈদুল আজহায় গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী পলাশবাড়ী চামড়ার হাটে ১০ কোটি টাকারও বেশি চামড়া কেনাবেচা হয়। কিন্তু এই বিপুল সম্ভাবনাময় খাতটি এখন নীতিমালার অভাব আর বকেয়ার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। চামড়া দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি আয়কারী খাত হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়া শিল্পের এই বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং আড়তদারদের বকেয়া টাকা আদায়ে সরকারের কার্যকর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Go to News Site