Collector
বিআরটিএ’র আদলে নকল ওয়েবসাইট, এআই মামলা নিয়ে অভিনব প্রতারণা | Collector
বিআরটিএ’র আদলে নকল ওয়েবসাইট, এআই মামলা নিয়ে অভিনব প্রতারণা
Somoy TV

বিআরটিএ’র আদলে নকল ওয়েবসাইট, এআই মামলা নিয়ে অভিনব প্রতারণা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের সহজেই শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি চালু করা হলেও, এবার এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়েছে একটি চতুর প্রতারক চক্র। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সরকারি ওয়েবসাইট নকল করে পরিবহন মালিকদের কাছে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।এ ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে সময় সংবাদ। অনুসন্ধানে অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা একই ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পেয়েছেন। এসব বার্তায় নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানার ভয় দেখিয়ে আসলে একটি নিখুঁত প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর তাদের মোবাইলে bspbrtcar-payfeebd.icu নামের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক পাঠানো হয়। বার্তায় দাবি করা হয়, রাস্তায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর সময় এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা হয়েছে।ভুক্তভোগীরা লিংকে ক্লিক করলেই বিআরটিএর আসল ওয়েবসাইটের হুবহু আদলে তৈরি একটি নকল ওয়েবসাইটে (ক্লোন সাইট) প্রবেশ করেন। সেখানে জরিমানা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহারের অপশন রাখা হয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, গ্রাহকদের দ্রুত ফাঁদে ফেলতে এবং বিশ্বাস অর্জন করতে জরিমানার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড়ের লোভনীয় প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে চক্রটি।প্রযুক্তিবিদ আব্দুর রাকিব নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘কিছুদিন আগে হঠাৎ করে আমার মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। সেখানে বলা হয়, আমি ওভার স্পিডিং (গতিসীমা লঙ্ঘন) করেছি এবং এ কারণে ৩০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরও বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে ১৫০০ টাকা দিলেই হবে। লিংকে ক্লিক করে দেখি হুবহু সরকারি সাইট। পরে বুঝতে পারি এটি প্রতারণা।’ আরও পড়ুন: শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়কে এআই মামলা: নতুন যে তথ্য দিলো পুলিশ এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. হাবীবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলা বা জরিমানা আদায়ের বিষয়টি সরাসরি তাদের এখতিয়ারে নেই। সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। তারা এ ধরনের ভুয়া মেসেজ তৈরি করেছে। আমরা বিষয়টি জানার পরপরই যাচাই করেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে এটি সম্পূর্ণ ফেক। জনগণকে কোনোভাবেই এসব মেসেজে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।এদিকে এই নতুন ধরনের সাইবার অপরাধ ঠেকাতে এরইমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এআই মামলার জরিমানার তথ্য গ্রাহকদের জানাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্দিষ্ট দুটি নম্বর থেকে বার্তা পাঠানো হবে। এর বাইরে অন্য কোনো নম্বর বা লিংক থেকে পাঠানো বার্তা গ্রহণযোগ্য নয়।ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিসুর রহমান জানান, এআই ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার পর তা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। যাচাই প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে ভুক্তভোগীর ঠিকানায় কাগজের তৈরি হার্ড কপি (চিঠি) পাঠানো হয়, এবং এরপর মোবাইলে বার্তা দেয়া হয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের সাইবার ইউনিটকেও অবহিত করা হয়েছে।প্রযুক্তির সহায়তায় যানজটের নগরী ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করলেও, অপরাধীদের এই নতুন কৌশল এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অনলাইনে সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো সেবা গ্রহণ ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের লিংক ভালোভাবে যাচাই করার এবং আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Go to News Site