Jagonews24
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা রাজনীতির মাঠে নানা চড়াই-উৎরাই পার করেছেন। অবশেষে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে ক্ষমতায় এসেছেন তারা। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে কাজ করছে বিএনপি সরকার। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ১০০ দিন পার করেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। সেদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। সেদিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর যথাক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ নেন। আরও পড়ুনদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান সরকারের ১০০ দিনে আলোচিত ইস্যু দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মোট ৬০টি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। আরও পড়ুনকৃষক কার্ড থেকে থার্ড টার্মিনাল: সরকারের ১০০ দিনে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী পরিবার গঠনে বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয় প্রাথমিক পর্যায়ে। প্রতিটি কার্ডে মাসিক আড়াই হাজার নগদ টাকা সহায়তা করা হচ্ছে। দেশের কৃষকদের জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা হয়েছে। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষার ১৮টি বিষয় নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। শিগগির প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়। এসবের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আরও পড়ুন২৫ কার্যদিবসে ৯৪ বিল পাসে শেষ হলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনবাবার খনন করা ‘ধরার খাল’ ৪৭ বছর পর পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা করেছে বিএনপি সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণে বৃহত্তর কর্মসূচি ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য এরইমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত চারাগুলো চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। এছাড়া শহরের মধ্যে থাকা খালের পাশে আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা এবং হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে। জ্বালানি ও হাম ইস্যু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক পরপরই ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক সংকটে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য। এর অস্থিরতা টের পাওয়া যায় বাংলাদেশেও। যদিও পরে খুব দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় সরকার। হাম ইস্যু সামাল দিতে অনেকটা হিমশিম অবস্থা। সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচশর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম ইস্যুতে আগের সরকারকে দায়ী করা হলেও স্বাস্থ্যখাতে তৈরি হওয়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বেগ পেতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। যদিও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার কথা জানিয়েছে বিএনপি সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নারী-শিশুবিষয়ক নিরাপত্তা ইস্যু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘মব’ কালচার বন্ধ করতে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিশেষ করে ধর্ষণ, হত্যা এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছেই। যদিও নারীদের উচ্চ শিক্ষায় উপবৃত্তি চালু, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং সেক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বলা হচ্ছে। আরও পড়ুনসাতদিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসতর্ক ও রক্ষণশীল বাজেটের পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের বাজেট ইস্যু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেসামাল হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। সেই জের টেনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকারের বড় পদক্ষেপ হয়তো সামনের বাজেট। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তারা ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে কাজ করছে এবং বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এরইমধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর যেসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের নজর কাড়ে ঠিকমতো অফিস করা কিংবা ছুটির দিনেও কাজ করার যে মানসিকতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেটি সবার নজর কেড়েছে। রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন, নিজ খরচে তেল ব্যবহার করছেন, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও স্ত্রী-সন্তানকে সময় দেওয়ার বিষয়টিও চোখ এড়ায়নি সাধারণ মানুষের। আরও পড়ুনসিনেমা দেখতে হলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানস্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী এসএনআর/এমএমএআর
Go to News Site