Jagonews24
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ-টানা বৃষ্টি ও একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে বসে থেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের। বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পুংলী ও এলেঙ্গাসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়৷ পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর গাজীপুরে চন্দ্রা ও ঢাকার সাভার এলাকায় তীব্র যানজট ছিল৷ এর প্রভাবে পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ফলে এ মহাসড়ক জুড়েই যানবাহনকর ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, যমুনা সেতু পাড়ি দিতেই ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ভোগান্তি অবর্ণনীয়। এজন্য এই চরম ভোগান্তির অবসান চান তারা। মহাসড়কের পুংলি এলাকায় বাসের চালক মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রাত ১০টায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে গাড়ি ছেড়েছি। বেলা ১১ পর্যন্ত টাঙ্গাইলেই বসে ছিলাম। একই স্থানে ৪ ঘণ্টা ধরে বসে থাকতে হয়েছে৷ চন্দ্রা পার হলে কুড়িগ্রাম যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। ১৩ ঘণ্টা পার হলেও যমুনা সেতুও পার হতে পারেনি। রাজশাহীর বাস চালক বেল্লাহ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, অন্য সময়ে রাজশাহী যেতে সময় লাগে, ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। কিন্তু যানজটেই আটকা রয়েছি ৬ ঘণ্টার বেশি। আমাদের এ ভোগান্তির শেষ নেই। রাত থেকে আমাদের ঘুম নেই। আরেক বাস চালক হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রাত ১০টায় গাড়ি ছেড়ে এখন পর্যন্ত যমুনা সেতু পার হতে পারেনি। সড়কে জায়গায় জায়গায় গাড়ি পাকিং করার কারণে বেশি যানজট হচ্ছে। প্রশাসনকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাসের যাত্রী মোহনা জাগো নিউজকে বলেন, যানজটে আটকা পড়ে বাচ্চা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছি৷ প্রচণ্ড গরম বাসের মধ্যে। এছাড়া আমরা বাইরেও যেতে পারছি না। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই গাড়িতে বসে আছি৷ বাসের আরেক যাত্রী পারভেজ বলেন, ১৪ ঘণ্টা ধরে যানজটে রয়েছি। এখনো যমুনা সেতু পার হতে পারেনি। ঈদ যাত্রায় এমন যানজটে সরকারের গাফিলতি রয়েছে। নওগাঁর যাত্রী বলেন, স্বাভাবিক সময়ে নওগাঁ যেতে সময় লাগে ৬ ঘণ্টা। ইতোমধ্যেই ১৫ ঘণ্টা পার হলেও যমুনা সেতু পার হতে পারি। সরকারের আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সেতুতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে জটলা হতে শুরু করে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জাগো নিউজকে বলেন, চার লেন থেকে দুই লেনে যমুনা সেতুতে গাড়ি যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনায় ও ট্রাক বিকলসহ বৃষ্টিতে গাড়ি বন্ধ ছিল৷ যানজট নিরসনে আমরা কাজ করেছে৷ আব্দুল্লাহ আল নোমান/এনএইচআর/এমএস
Go to News Site