Somoy TV
সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সময়কার কয়েক ডজন গোপন রাসায়নিক অস্ত্রের সন্ধান মিলেছে। আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল ওয়েপন্স তথা ওপিসিডব্লিউ তাদের মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।ওপিসিডব্লিউ জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি অনুসন্ধান দল সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র মজুত সম্পর্কিত ঘোষণার ‘যথার্থতা ও সম্পূর্ণতা’ যাচাই করার জন্য মোতায়েন করা হয়। সিরিয়া কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ‘উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঘোষিত স্থানসমূহে’ এই অনুসন্ধান চালানো হয়। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘অঘোষিত অসংখ্য রাসায়নিক গোলাবারুদ যেমন আকাশী বোমা ও রকেট, পাশাপাশি আলাদাভাবে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম... এইসব অঘোষিত স্থানের কয়েকটিতে পাওয়া গেছে, সাথে রয়েছে হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র।’ সিরিয়া ২০১৩ সালে ওপিসিডব্লিউতে যোগ দেয় এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তার বিষাক্ত এজেন্টের মজুত প্রকাশ করতে এবং ধ্বংসের জন্য হস্তান্তর করতে সম্মত হয়, যাতে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের বিমান হামলার হুমকি এড়ানো যায়। কিন্তু ওপিসিডব্লিউ মনে করে যে, এই ঘোষণা অসম্পূর্ণ ছিল এবং অন্যান্য অস্ত্র এখনও হিসাবের বাইরে রয়েছে। প্রাপ্ত রাসায়নিক পদার্থ ও সরঞ্জামগুলো বর্তমানে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি। তারা বলেছে, ‘এই অনুসন্ধানের ফলাফল পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।’ আরও পড়ুন: দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩১ সিরিয়ায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বারবার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এরপর ২০২৪ সালে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর সিরিয়ার মজুত রাসায়নিক অস্ত্রের ভাগ্য নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। গত বছর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির সব চিহ্ন ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর ওপিসিডব্লিউর নেতৃত্বে অনুসন্ধান শুরু হয়। ওপিসিডব্লিউতে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ কাতুব জানিয়েছেন, রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচিতে জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়েছেন। আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা, বেশ কয়েকজন হতাহত কয়েকজন আসাদ সরকারের জ্যেষ্ঠ জেনারেল ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আটককৃতদের অন্তত চারজন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ছিলেন।
Go to News Site