Somoy TV
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌ বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। ৬ দশক পর ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই নৌ বন্দরে আবারও পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। তবে মাত্র ১০ দিন চালু থাকার পর পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।পরে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সুলতানগঞ্জ পোর্ট অব কল পরিদর্শন করেন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করে দ্রুত বন্দরটি চালুর নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। আমদানি-রফতানিকারকদের অভিযোগ, নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গড়িমসির কারণে এই বন্দরের কার্যক্রম আটকে আছে। পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌ বন্দরে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে সব ধরনের অবকাঠামো তৈরি করেছে। তার তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে মাসের পর মাস পড়ে আছে। প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে ভাড়া গুনতে হচ্ছে। দ্রুত বন্দরটি চালু না হলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। আরেক আমদানিকারক সুলতানুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের পানামার ধারণা, এই বন্দর চালু হলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে; যা সঠিক নয়। সরকারের উচিত দ্রুত কাস্টমস বসিয়ে বাণিজ্য শুরু করা। এতে সরকার দুই দিক থেকেই রাজস্ব পাবে। আরও পড়ুন: স্থবির সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর, পুরোপুরি চালু হলে খুলবে বাণিজ্যের নতুন দুয়ার! ব্যবসায়ীদের মতে, বন্দরটি চালু হলে পণ্য আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ খরচ কমবে এবং সময়ও সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, বন্দরটি চালু হলে সরকার রাজস্ব পাবে এবং এই অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক জোনে পরিণত হবে। এতে এলাকার অর্থনীতিও গতিশীল হবে। এদিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ. কে. এম আরিফ উদ্দিন বলেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এনবিআর কেন এই নৌ বন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না তা উদ্বেগজনক। এতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। সরকার চাইলে দ্রুতই এই বন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। ১৯৬৫ সালে সুলতানগঞ্জ থেকে মায়া এবং গোদাগাড়ী থেকে লালগোলা নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই নৌপথে মূলত পাথর, মসলা ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পরিবহন হতো।
Go to News Site