Jagonews24
‘আমাদের পক্ষে তো কোরবানি দেওয়া সম্ভব না। মহল্লায় একটা গরু কাটার দায়িত্ব পেয়েছি। সেখান থেকে কিছু মাংস পাবো। অন্যান্য জায়গা থেকেও পাবো। কতদিন আগে গরুর মাংস খেয়েছি মনে নেই। আল্লাহ রহম করলে আগামীকাল ঈদের দিন পরিবারের সবাই মিলে পেট ভরে মাংস দিয়ে ভাত খাবো।’ পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন রাজধানীর রামপুরা মোল্লাবাড়ি বাজারে সামান্য কিছু মসলা কিনতে এসে এভাবেই নিজের আকুতি প্রকাশ করছিলেন রিকশাচালক আব্দুল হালিম। জাগো নিউজকে বলেন, মাংস রান্না করার জন্য একটু একটু করে মসলা কিনছি। দাম অনেক বেশি। ২০-৫০ টাকায় খুব অল্প পরিমাণ মসলা পাওয়া যাচ্ছে। ৮০০ টাকার ওপরে গরুর কেজি, মসলার দামও অনেক বেশি। আরও পড়ুনমসলার দামে আগুন, বিপাকে ক্রেতারা ঈদের আগে বাড়লো আদার দাম, পেঁয়াজ-রসুনে স্বস্তি ঈদের আগে চোখ রাঙাচ্ছে মসলার বাজার বিভিন্ন এলাকায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। কেউ কোরবানির পশু কিনছেন, কেউ রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যস্ততা এখন সবচেয়ে বেশি মসলার দোকানগুলোতে। সীমিত আয়ের মধ্যে ঈদের দিনে পরিবারকে একটু ভালো খাবার খাওয়াতে শেষ সময়ে সীমিত পরিমাণে মসলা কিনছেন তারা। বুধবার (২৭ মে) রামপুরা, খিলগাঁও, বনশ্রী ও বাড্ডা এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসলার দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। অনেকেই ২০-৫০ টাকার শুকনা মরিচ, জিরা, গরম মসলা, গোলমরিচ, এলাচ কিনছেন। বেশিরভাগ ক্রেতাই দিনমজুর, রিকশাচালক, গার্মেন্টসকর্মী কিংবা ছোটখাটো চাকরিজীবী। কোরবানি না দিলেও ঢাকার বাসায় বাসায় কাল মাংস থাকবে। যারা কোরবানি দেবেন তাদের কাছ থেকে কিছু মাংস পাবো আশা করছি। ৫ বছর ধরে ঢাকায় আছি। প্রতিবার ভালো পরিমাণেই মাংস পাই। - গার্মেন্টসকর্মী জিম আক্তার গার্মেন্টসকর্মী জিম আক্তার ৫০ টাকার গরম মসলা ও ২০ টাকার শুকনা মরিচ কিনছিলেন। বলেন, আগামীকাল ঈদ। কোরবানি না দিলেও ঢাকার বাসায় বাসায় কাল মাংস থাকবে। যারা কোরবানি দেবেন তাদের কাছ থেকে কিছু মাংস পাবো আশা করছি। ৫ বছর ধরে ঢাকায় আছি। প্রতি বছরই কোরবানির সময় ভালোই মাংস পায়। সেই মাংস পরিবারের সদস্যরা মিলে কয়েকদিন খাওয়া যায়। রাজধানী রামপুরা মোল্লাবাড়ি বাজারে মসলার দোকানে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ তিনি বলেন, ঘরে তেল, পেঁয়াজ, রসুন আছে। কিন্তু অনেকদিন গরম মসলা কেনা হয় না। আমরা তো আর নিয়মিত মাংস খেতে পারি না, তাই মসলাও খুব একটা কেনা হয় না। আগামীকালের মাংস রান্না করার জন্য এখন কিছু মসলা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা ইনকাম হয়, তার বেশিরভাগই চাল, নুন, ঝাল কিনতেই শেষ হয়ে যায়। পরিবার নিয়ে ভালো খবার খুব একটা খেতে পারি না। বেশিরভাগ দিন শুধু সবজি, ডাল, ভর্তা দিয়ে খায়। মাঝে মধ্যে বয়লার মুরগি কিনি। গরু খাই না কয়েক মাস হয়ে গেছে। কাল পরিবারের সবাই মিলে গরুর মাংস খেতে পারবো। - রিকশাচালক মো. কালু মিয়া খিলগাঁও তালতলা মার্কেটেও মসলার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। তালতলা মার্কেটে মসলা কিনতে আসা আছিয়া বেগম বলেন, আমার পরিচিত একজনের মাধ্যমে কাল একটা বাজার মাংস গুছিয়ে দেওয়ার কাজ পেয়েছি। সেখান থেকে কিছু মাংস পাবো। এছাড়া পরিচিত কয়েকজন কোরবানি দেবেন। তারও কিছু মাংস দেবেন। এজন্য দোকানে মসলা কিনতে আসছি। তালতলা মার্কেটে মসলা কিনতে আসা রিকশাচালক মো. কালু মিয়া বলেন, সারাদিন রিকশা চালায়া যা ইনকাম হয়, তার বেশিরভাগই চাল, নুন, ঝাল কিনতেই শেষ হয়ে যায়। পরিবার নিয়ে ভালো খবার খুব একটা খেতে পারি না। বেশিরভাগ দিন শুধু সবজি, ডাল, ভর্তা দিয়ে খায়। মাঝে মধ্যে একটা বয়লার মুরগি কিনি। গরুর মাংস খায় না কয়েক মাস হয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে কাল পরিবারের সবাই মিলে গরুর মাংস খেতে পারবো। আরও পড়ুনবরিশালে স্থিতিশীল মসলার বাজার মসলার দামে আগুন, বিপাকে ক্রেতারা ময়মনসিংহে বেড়েছে রেডিমেড মসলার চাহিদা তিনি বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ মানুষ কোরবানি দেয়। আমাদের মতো যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের পক্ষে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে কোরবানি না দিলেও যারা ঢাকায় থাকেন, তাদের সবার বাসাই কম-বেশি কোরবানির ঈদ মাংস থাকে। কারণ যারা কোরবানি দেয় তারা মাংস বিলাতন করেন। আমি ৭ বছর ধরে ঢাকায় আছি, প্রতি বছরই কোরবানির সময় ৪-৫ কেজি করে মাংস পেয়েছি। বনশ্রী এলাকায় মসলার দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মো. মিলন শেখ বলেন, আমরা সাতজন মিলে একটা গরু কোরবানি দিচ্ছি। ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ভাগের ভাগ ১০ হাজার টাকা করে পড়েছে। এখন কসায়’র জন্য আরও কিছু টাকা লাগবে। কোরবানির মাংস রান্না করার জন্য কিছু মসলা কিনতে আসছি। বাসায় যে মসলা ছিলো শেষ হয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বেশি। অনেকে ২০-৩০ টাকার জিরা, ১০ টাকার শুকনা মরিচ, ১০ টাকার গোলমরিচ, ৫০ টাকার গরম মসলা কিনছেন। এক কেজি বা আধা কেজি মসলা কেনার লোক এখন কম আসছেন। - মসলা বিক্রেতা মো. হাসান এদিকে মসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদের আগের দিন প্রতি বছর মসলা বিক্রি বেড়ে যায়। নিম্ন আয়ের মানুষেরা অল্প অল্প করে বিভিন্ন মসলা কিনেন। এছাড়া বড় ক্রেতারাও কেউ কেউ শেষ সময়ে মসলা কিনতে আসেন। খিলগাঁও তালতলা বাজারের মসলা বিক্রেতা মো. হাসান বলেন, গত দু’দিন ধরে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বেশি। অনেকে ২০-৩০ টাকার জিরা, ১০ টাকার শুকনা মরিচ, ১০ টাকার গোলমরিচ, ৫০ টাকার গরম মসলা কিনছেন। এক কেজি বা আধা কেজি মসলা কেনার লোক এখন কম আসছেন। রাজধানী রামপুরা মোল্লাবাড়ি বাজারে মসলার দোকানে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ তিনি বলেন, আগামীকাল কোরবানি। কোরবানির সময় সবার ঘরেই মাংস যায়। ঢাকায় যারা কোরবানি দেন না, তারাও যথেষ্ট পরিমাণে মাংস পান। এসব মাংস রান্না করার জন্যই এখন মানুষ মসলার দোকানে আসছেন। ঢাকায় বাস করা নিম্ন আয়ের অনেকেই কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকেন। এই মানুষগুলো কোরবানির সময় গরু ও ছাগল সব ধরনের মাংস খাওয়ার সুযোগ পান। তারাই এখন মসলা কিনতে বেশি আসছেন। - বিক্রেতা মো. আল মামুন রামপুরার মসলা বিক্রেতা মো. আল মামুন বলেন, আগামীকাল কোরবানি, সেই উপলক্ষে আস মসলা বিক্রি ভালো হচ্ছে। আমরা আগে যে দামে বিক্রি করেছি, এখনো সেই দামেই বিক্রি করছি। এখন যারা মসলা কিনছেন, তরা ওজনে নয় টাকার পরিমাণে কিনছেন। আমরা কাউকে ঠকাচ্ছি না। ২০-৩০ টাকায় যা পাওয়ার কথা তার থেকে বেশি ছাড়া কম দিচ্ছি না। আরও পড়ুনঈদে মসলার বাজারে খরচের খড়গ গরিবের ঈদের আনন্দ বাড়াচ্ছে মাংস সমিতি পুরোনো পাঞ্জাবির ভাজে মধ্যবিত্তের ঈদ আনন্দ তিনি বলেন, ঢাকায় বাস করা নিম্ন আয়ের অনেকেই কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকেন। কারণ তাদের পক্ষে গরু বা ছাগলের মাংস কিনে খাওয়া কঠিন। এই মানুষগুলো কোরবানির সময় গরু ও ছাগল সব ধরনের মাংস খাওয়ার সুযোগ পান। তারাই এখন মসলা কিনতে বেশি আসছেন। এমএএস/এমআরএম
Go to News Site