Somoy TV
ঈদের ছুটিতে নেত্রকোনার যেসব এলাকায় ঘুরতে যেতে পারেন তার মধ্যে অন্যতম দুই উপজেলা দুর্গাপুর কলমাকান্দা। সীমান্তবর্তী এই দুই উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। তেমনই নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত।জেলার দুর্গাপুরের বিজয়পুর সীমান্ত, সাদা মাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ পানি যে কাউকে আকৃষ্ট করে। হাতছানি দিয়ে ডাকে এর সৌন্দর্য। একই উপজেলায় রয়েছে ক্যাথলিক চার্চ রানীখং মিশন। টংক আন্দোলনে প্রথম শহীদ রাশিমণি হাজং স্মৃতি সৌধ রয়েছে বড়ুয়াকোণা গ্রামে। বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে রয়েছে গারো হাজং আদিবাসীদের নানা স্মৃতি চিহ্ন। রয়েছে সুসং রাজার স্মৃতিবিজড়িত যুদ্ধকালীন নানা সরঞ্জাম। টংক আন্দোলনের নানা স্মৃতি চিহ্ন। আদিবাসীদের ভাষার চিহ্ন। আর এসব ঘুরে আসলে চাইলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রথমে যেতে হবে ময়মনসিংহ অথবা নেত্রকোনা। আরও পড়ুন: ঈদের লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারের সেরা ১০ গন্তব্য: কোথায় যাবেন, কী দেখবেন, খরচ কত?ময়মনসিংহ থেকে সরাসরি শ্যামগঞ্জ বিরিশিরি সড়ক পথেও যাওয়া যাবে আবার নেত্রকোনা গিয়ে সেখান থেকেও যাওয়া যাবে। ময়মনসিংহ থেকে বিরিশিরি ৬৫ কিলোমিটার এবং বিজয়পুর সীমানা পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার হবে পুরোটাই ঘুরে আনন্দ পাবেন ভ্রমণ পিপাসুরা। ময়মনসিংহ থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত এক থেকে দেড়শ টাকায় বাস চলাচল করলেও বিরিশিরি থেকে অটো রিকশা সিএনজি অথবা মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে ঘোরা যাবে। জনপ্রতি ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যাবে সারাদিন। এছাড়া নেত্রকোনা শহর থেকে কোন বাস না থাকায় সিএনজি অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল করে যাওয়া যাবে পুর্বধলা চৌরাস্তা হয়ে। আবার ডেউটুকুন দিয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার সড়ক কমিয়ে কংশ নদী পার হয়ে যেতে হবে। অটোরিকশা করে দুই পার থেকে অথবা একসঙ্গে রিজার্ভ করেও যাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে খরচ বেশি লাগবে। এদিকে একই সংসদীয় আসনের কলমাকান্দা উপজেলা জুড়ে রয়েছে সীমান্ত ঘেঁষা নদী গ্রাম। পাহাড়ি মহাদেও ও গনেশ্বরী নদী অন্যতম। রয়েছে পাঁচগাও সীমান্ত যেখানে চাঁদ সওদাগরের নৌকা ডুবে যাওয়ার গল্প থেকে চন্দ্রডিঙ্গা গ্রাম। রয়েছে পাতলাবন সীমান্ত। যা মহাদেও নদীর ওপর পাহাড় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে। আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির শহর কুমিল্লাএছাড়াও একই উপজেলার লেঙ্গুড়া সীমান্ত ৭২নং পিলারের কাছে সমাহিত ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধ দিবসে সাত শহীদের মাজার। যেখানে গনেশ্বরী নদীর মাধ্যমে দুই দেশের বিভাজন দেখা যাবে। কলমাকান্দা খারনৈ, রংছাতি ও লেঙ্গুড়া এই তিন ইউনিয়ন একেবারে মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা থাকায় পুরো অর্ধশত কিলোমিটার জুড়ে নিয়ানাভিরাম দৃশ্য। আর কলমাকান্দা যেতে হলেও ময়মনসিংহ বা সরাসরি ঢাকা থেকে বাস চলাচল করে। নেত্রকোনা হয়ে গেলে কলমাকান্দা বাস, মোটোরসাইকেল, সিএনজি দিয়েও যাওয়া যাবে। জনপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকায় ঘুরে আসা যাবে পুরো সীমান্ত। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে জেলার ৯২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে যা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে। মোট ১০ টি বিওপির মাধ্যমে এসকল সীমান্ত এলাকায় টহল দেয়া হয়।
Go to News Site