Collector
পাহাড়-হ্রদের মিতালি দেখতে এই ঈদে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি | Collector
পাহাড়-হ্রদের মিতালি দেখতে এই ঈদে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি
Somoy TV

পাহাড়-হ্রদের মিতালি দেখতে এই ঈদে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। পাহাড়ের পাদদেশে ধমনীর মত ছড়িয়ে আছে হ্রদের নীল জলরাশি। সবুজে আচ্ছাদিত বিশাল পাহাড়। আর আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতির এমন মোহনীয় রূপের দেখা মিলে রাঙ্গামাটিতে। তাই ঈদের এই লম্বা ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন হ্রদ, পাহাড়ের নগরী রাঙ্গামাটি থেকে। যেখানে আপনাকে বরণের অপেক্ষায় আছে মেঘের রাজ্য সাজেক, নয়নাভিরাম আসামবস্তি সড়ক, সুবলং ঝর্ণা, বিশাল কট্টলীবিল।শুধু তাই নয়, হ্রদের বুকে কোলাহল মুক্ত প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠা রিসোর্টে। যেখানে নিজের মত উপভোগ করা যায় অন্য এক রাঙ্গামাটিকে। জেনে নিন রাঙ্গামাটি কয়েকটি পর্যটন স্পটের বিস্তারিত তথ্য। মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালীঃ রাঙ্গামাট জেলার সব থেকে ভাইব তোলা পর্যটন স্পট এটি। যেখানে মেঘ এসে ছুঁয়ে যায় রিসোর্টগুলোকে। এমন দৃশ্য উপভেগ করতে চাইলে আপনি চোখ বন্ধ করে চলে যান সাজেক ভ্যালীতে। উপভোগ করে আসুন মেঘের স্পর্শ। কীভাবে যাবেনঃ সাজেলভ্যালী যদিও রাঙ্গামাটি জেলায়, তবে যাতাযাত করতে হয় খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি বাসের টিকেট কেটে নিন। খরচ হবে নন এসি ৮০০ টাকা, এসি ১ হাজার ৪০০ টাকা। দেশের নামিদামী সব বাস কোম্পানীর গাড়ি চলাচল করে এই রুটে। খাগড়াছড়ি থেকে চাদের গাড়ি (জীপ ১২ জন যাওয়া যায়) এক রাত অবস্থান করলে জীপ ভাড়া লাগবে ১০ হাজার টাকা। রিসোর্ট ভাড়া আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিতে পারবেন। ভাড়া সর্বনিন্ম ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার রিসোর্ট আছে। তবে সাজেক যাবার আগে অবশ্যই রিসোর্ট বুক করে যেতে হবে।রাঙ্গামাটির এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে যেতে পারেন আপনিও। ছবি: সময় সংবাদ সুবলং ঝর্ণাঃ রাঙ্গামাটি আগত পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের স্পট সুবলং ঝর্ণা। তবে ঝর্ণা যাই হোক, যাবার পথটি অদ্ভুত সুন্দর। বিশাল-বিশাল পাহাড়ের মাঝ দিয়ে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি ভেদ করে এগিয়ে চল বোট। সবুজ পাহাড়, নীল আকাশের সাদা মেঘেল ভেলা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে। আর ঝর্ণায় গা ভিজিয়ে স্বতেজ করে নিতে পারবেন নিজেকে। খেতে পারবেন পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী সব খাবার। এই পথে বেশ কয়েকটি রেস্তোরা রয়েছে। খাবারের দাও খুব একটা বেশি নয়। যেভাবে যাবেন সুবলংঃ রাঙ্গামাটি শহরের বেশ কয়েকটি ঘাট থেকে সুবলং যাবার বোট পাওয়া যায়। বোট ভেদে ভাড়া বাবদ খরচ হবে আড়াই থেকে ৬ হাজার টাকা। বোটের ধারণ ক্ষমতা ১০/১৫ জন। তবে দুই জন গেলেও উল্লেখিত ভাড়াই দিতে হবে। নয়াভিরাম আসামবস্তি সড়কঃ এটি রাঙ্গামাটির আরো একটি দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের চূড়া দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সড়ক। যার একপাশে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদ, অন্যপাশে পাহাড়। গাড়িতে বসে উপভোগ করা যায় এই দৃশ্য। একবার এই সড়কে প্রবেশ করলে মাত্র ১৮ কিলোমিটার রাস্তা আপনি ৩ ঘণ্টাও ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। প্রকৃতি আপনার মনকে থামিয়ে দিবে। এই সড়কে রয়েছে বেশ কিছু রিসোর্ট, যার মধ্যে বার্গী লেকভ্যালী, বেরাইন্যা, বড়গাঙ্গা, ইজর,অন্যতম। এসব রিসোর্টে থাকা খাওযার সুব্যবস্থা রযেছে। রিসোর্ট ভেদে ভাড়ার পরিমাণ ৬/ ১৫ হাজার টাকা। হ্রদ বেষ্টিত রিসোর্টঃ কাপ্তাই হ্রদের ছোট ছোট দ্বীপে গড়ে ওঠা এসব রিসোর্ট অবকাশ কাটানোর আদর্শ স্থান হিসাবে পর্যটকদের মনে স্থান করে নিয়েছে। যারা কোলাহল পছন্দ করেন না, তারা এখানে পরিবার পরিজন নিয়ে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। এসব রিসোর্টের মধ্যে রয়েছে মায়াবী দ্বীপ, রাঙ্গাদ্বীপ, ওয়াইল্ড উড , নীলঞ্জনা রিসোর্ট অন্যতম। যেখানে আপনার পছন্দ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা সুযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে গাড়ির কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলবে চালকের সব তথ্য এসব রিসোর্টে মধ্যে নিবে ভাড়া ৮ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। যেখানে প্রতিটি কটেজে রয়েছে এসি, আছে প্রাইভেট সুইমিংপুল। আবাসিক পর্যটদের যাতায়াতে ব্যবস্থা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ করে থাকেন। এছাড়াও কাপ্তাই হ্রদে রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে বেশ কিছু হাউজ বোট। যেখানে থাকা খাওয়া ও হ্রদ ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব হাউজ বোটে ছুটি কাটাতে চাইলে জন প্রতি খরচ হবে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে বিরল প্রজাতির নাইট হিরন উদ্ধার এর আগে আপনাকে ঢাকা থেকে সরারসি চলে আসতে হবে রাঙ্গামাটি। বাস ভাড়া নন এসি ৯২০ টাকা, এসি ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা। এখানেও ৮/১০টি কোম্পানীর বাস চলাচল করে।

Go to News Site