Collector
ত্যাগের উৎসবে আনন্দের জোয়ার দেশজুড়ে | Collector
ত্যাগের উৎসবে আনন্দের জোয়ার দেশজুড়ে
Jagonews24

ত্যাগের উৎসবে আনন্দের জোয়ার দেশজুড়ে

ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মহিমায় সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই দেশের শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।  জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে লাখো মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই ঈদের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। নতুন পোশাক পরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ঈদের জামাতে যোগ দেন। ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়। ঈদের নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রস্তুতির চিত্র দেখা যায়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন এলাকায় দুপুরের মধ্যেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানীর রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মো. মামুন বলেন, আমাদের এখানে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদুল আজহা শুধু আনন্দের নয়, ত্যাগের শিক্ষাও দেয়। সকালে পরিবার নিয়ে নামাজ পড়েছি। এখন কোরবানির কাজ শেষ করে আত্মীয়স্বজন ও গরিব মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণ করবো। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা তালুকদার পিয়াস বলেন, আমরা সকাল ৭টায় ঈদের জামাত আদায় করেছি। এখন কোরবানি দেওয়ার পালা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিট গরু জবাই দেওয়া হয়ে গেছে। পরিবারের সবাই মিলে কোরবানির গরুর মাংস কাটার কাজ করবো। রামপুরার গৃহিণী শিমুল আক্তার বলেন, সারাবছর সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত থাকে। ঈদে পরিবারের সবাই একসঙ্গে হয়। কোরবানির পর রান্নাবান্না আর অতিথি আপ্যায়ন নিয়ে অন্যরকম ব্যস্ততা থাকে। গরু জবাই করা দেখতে এসেছিলাম। এখন বাসায় রান্নার কার্যক্রম করবো। সিয়াম নামের আরেকজন বলেন, গত কয়েকদিন ঢাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ সকালটা অনেক সুন্দর ছিল। মনে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি হয়নি। ভালোভাবে নামাজ আদায় করতে পেরেছি। আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় গরু জবাই দিয়েছি। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ মানে শুধু মাংস খাওয়া না, এই ঈদ মূলত ত্যাগের। নিয়ম মেনে কোরবানির একভাগ গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করবো, এটা তাদের প্রতি দয়াদাক্ষিণ্য না, এই মাংস পাওয়া তাদের অধিকার। বাকি মাংসের বেশিরভাগ আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করার ইচ্ছা আছে। শুধু রাজধানী নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগেও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সকালবেলা ঈদের নামাজ শেষে অনেকে কবর জিয়ারত করেন। এরপর শুরু হয় কোরবানির আয়োজন। গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলাও ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। ঝিনাইদহ জেলার মো. রাশেদুল ইসলাম রেশাদ বলেন, শহরের তুলনায় গ্রামের ঈদের আনন্দ আলাদা। সকালে সবাই মিলে ঈদগাহে নামাজ পড়েছি। সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন বাড়িতে কোরবানির প্রস্তুতি চলছে। ছোটরা খুব আনন্দ করছে। ঝিনাইদহের আরেক বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সারাবছর কষ্ট করি এই দিনের জন্য। কোরবানি দিতে পারলে মনটা শান্তি পায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মাংস ভাগাভাগি করাও ঈদের বড় আনন্দ। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারপর থেকেই মুসলমানরা কোরবানি দিচ্ছেন। কোরবানির গরু কেনার পর গত ১০ দিন সামর্থ্য অনুযায়ী যত্ন করেছি। এখন আল্লাহর নামে কোরবানি দেবো। কবুল করার মালিক তিনিই। ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাবার ও পোশাক বিতরণ করেছে। দেশের বিভিন্ন এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, কারাবন্দি ও পথশিশুদের জন্যও বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সেই ত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা প্রতি বছর ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। ঈদকে ঘিরে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। ঈদের নাটক, সিনেমা, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করছেন দর্শকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় চলছে। এমএএস/এসএনআর

Go to News Site