Collector
ঈদে মাংস খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সুস্থ থাকার পরামর্শ | Collector
ঈদে মাংস খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সুস্থ থাকার পরামর্শ
Jagonews24

ঈদে মাংস খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সুস্থ থাকার পরামর্শ

ঈদ আনন্দের উৎসব এবং খাবারের তৃপ্তি না থাকলে এই আনন্দ যেন পরিপূর্ণতা পায় না। ঈদ ও ঈদ পরবর্তী সময়ে ভালো ও সুস্থ থাকতে হলে খাবারের ব্যাপারে সংযম থাকতে হবে। এভাবেই উৎসব চলতে থাকবে স্বাস্থ্যটা যেন ভাল থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কোরবানির ঈদের আনন্দকে উপভোগ করার জন্য প্রায় প্রতিটি ঘরেই মজাদার ও মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের পদ তৈরি করা হয়। তবে সুস্থ থেকে ঈদ পালনে খাবারের ভালো মন্দের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। কেননা প্রতিটি পরিবারেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ যেমন থাকে, তেমনি বিভিন্ন রোগীও কিন্তু থাকে। তাই কুরবানির ঈদের খাবারের মেনুটি স্বাস্থ্যকর হতে হবে। এর পাশাপাশি গরু খাসির মাংসের নানা পদ তৈরিতে নিরাপদ স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি অবশ্যই মেনে চলতে হবে । যারা বাড়ন্ত বয়সী, ওজন স্বাভাবিক এবং শারীরিক জটিলতা বা অসুস্থতা নেই তারা পছন্দমতো বাড়ির তৈরি সব খাবারই খেতে পারেন। তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ ওজন ৬০ থেকে ৭০ কেজি তিনি একদিনে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে এটি একবারে নয় তিন বেলায় ভাগ করে। একই দিনে অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন- ডিম বা চিকেনের কোন আইটেম খেলে সেদিন মাংস গ্রহণের পরিমাণ হবে ২০০ গ্রাম। গরু খাসির মাংসে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস বা খনিজ উপাদান যেমন- জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, হিম আয়রন। আবার ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি২ বি৩, বি৬, এবং বি১২। এছাড়াও আছে ক্ষতিকারক স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল। লাল মাংস ক্ষতিকর হবে না উপকারী সেটা নির্ভর করবে আপনি সেটা কতোটা নিয়ম মেনে এবং কি পরিমাণে খাচ্ছেন। ঈদের দিনের মুল খাবারের মেনুতে পোলাও বিরিয়ানি খিচুরি তেহেরির সঙ্গে লাল মাংসের নানা আইটেম থাকে। যারা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বা অসুস্থতায় ভুগছেন তারা সাদা ভাত সাথে যেকোনো ১ প্রকারের মাংসের ১টি আইটেম পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন । ঈদের দিন সকালে বা বিকালে দুধ, সেমাই, পায়েস, পুডিং, ফালুদা, কাস্টারড জাতীয় বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর নাশতা পরিমিত খেতে পারেন। তবে মিষ্টান্ন তৈরিতে কনডেনসড মিল্ক, বাটার অয়েল, মেয়োনেজ, মারজারিন, সাদা চিনি ইত্যাদি ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ডায়াবেটিস রোগীরা ডেসার্ট তৈরিতে বিকল্প মিষ্টি-কারক স্টেভিয়া দিতে পারেন। এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলবেন চিনি, গুড়, মধু ও মিসরি। খুব ভালো হয় ডেসার্টের পরিবর্তে নাশতায় মৌসুমি রঙ্গিন মিষ্টি ফল খাওয়া। যাদের হৃদরোগ, লিভার, কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দীর্ঘ মেয়াদী কোন রোগ আছে তারা খুব বেশি সতর্ক থাকবেন। গরু-খাসির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে দিনে ৬০-৯০ গ্রামের বেশি খাবেন না। পাশাপাশি সেদিন অন্য কোন প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবেন না। মাত্র অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। যাদের পাইলস ও এনাল ফিসার জাতীয় রোগ আছে তাদের পায়ুপথে জ্বালাপোড়া ব্যথা বেড়ে যায়। এমনকি পায়ুপথে রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই কোরবানির ঈদে যেহেতু আমাদের প্রধান খাবারই মাংস তাই এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। সেই সাথে ইসবগুলের ভুষি, তোকমা, চিয়া সিড, চিনি ছাড়া লেবুর শরবত বা অন্যান্য ফলের রসের শরবত এই জাতীয় তরল খাবার বেশি করে পান করবেন। ডায়াবেটিস ও ওজনাধিক্যের রোগীরা মিষ্টান্ন কম খাওয়ার পরিবর্তে ফল খাবেন। অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে ৪-৫ বারে অল্প করে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাবেন। প্রথমেই পোলাও বা ভাত নয়, আগে সালাদ/সবজি ও মাছ/মাংসের পদ গ্রহণ করা ভালো। সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে ও সার্বিক সুস্থতায় প্রতি ৫০ গ্রাম মাংসের সাথে ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খেতে পারেন এবং সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আমাদের জানা প্রয়োজন, গরু খাসির বিভিন্ন অংশের মাংসে ফ্যাট প্রোটিন ও কোলেস্টেরলের পরিমাণের তারতম্য আছে। যেমন- গরু-খাসির পেছনের রানে, পিঠ দাবনার মাংসে তুলনামূলক কম ফ্যাট ও বেশি প্রোটিন যুক্ত লিন মিট আছে। চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব লিন মিট খেতে। মগজ, ভুরি ও চর্বির টুকরা এড়িয়ে চলুন। আরও পড়ুন: ঈদের খাবারে মেনে চলুন স্বাস্থ্যবিধি ঈদে যেমন হওয়া ‍উচিত ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্তুতি স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস রান্নার পদ্ধতি হিসেবে, লিন মাংসগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে লেবুর রস সিরকা টক দই আদা রসুন ইত্যাদি যেকোনো মসলা দিয়ে ৩০ মিনিট মাখিয়ে রাখুন। এরপর কম তেলে সবজি দিয়ে রান্না করুন। এ ছাড়া সিদ্ধ বা খুবই সামান্য তেলে রান্না করা গোশত দেহের জন্য কম ক্ষতি বয়ে আনে। মাংস ভাজা বা ভুনা না করে ঝোল কমিয়ে রান্না করুন। ঘি ও মাখন যথাসম্ভব কম ব্যবহার করুন। ভাজা খাবারের পরিবর্তে বেক, গ্রিল বা স্টিম করা স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন। যেমন- বিফ বা মাটন টিক্কা, সবজিসহ বেকড বিফ বা মাটন, বিফ কাটা মসল্লা, রেজালা, বিফ স্টেক, সুপ-স্ট্যু, হালিম। হজম ও সুস্থতা বজায় রাখতে করণীয় কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে, সার্বিক সুস্থতার জন্য ঈদের দিনেও দুপুর ও রাতের খাবারের সাথে ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খেতে পারেন। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ঈদের আগের রাতে বা সকালে ইসবগুলের ভুষি পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। ভারী খাবারের পর হজমে সহায়ক বোরহানি, টক দইয়ের ঘোল বা মাঠা, লেবু বা জিরা পানি, আদা পানি, ডাবের পানি, ফ্রেশ জুস গ্রহণ করুন। কোল্ড ড্রিংকস, কোলা ও কৃত্রিম রঙ-ফ্লেভারযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। ফাস্ট ফুড, বেকারি ও রেস্তোরাঁর খাবার এড়িয়ে চলুন। রাতের খাবারের পরপরই ঘুমাবেন না, অন্তত ২ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করুন। ঈদের দিনে বা রাতে ১ ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করুন এবং খাবারের ক্যালরি বার্ন করুন। সঠিক উপায়ে খাবার গ্রহণ করে সুস্থ থেকে ঈদ উদযাপন করুন। যাদের বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, তারা প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। লেখক:ইসরাত জাহান ইফাতসিনিয়র ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্টবাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার ক্লিনিক ধানমন্ডি ও বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস জেএস

Go to News Site