Collector
সালামি বিভ্রাট | Collector
সালামি বিভ্রাট
Jagonews24

সালামি বিভ্রাট

ঈদের আগের রাত। চারদিকে কোরবানির গরু-ছাগলের ডাক, আর আমার ঘরের দরজা বন্ধ করে চলছে এক গভীর সাধনা। বিছানায় বসে ক্যালকুলেটর নিয়ে আমার বিশ্বখ্যাত ‘সালামি বাজেট’ প্রণয়ন করছি। আমি বরাবরই একটু হিসেবি বিরোধীরা যাকে কিপটে বলে আর কি! তবে ডিজিটাল যুগে এই কিপটেমিকে আমি রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছি। গত ঈদেও আমার এক ডজন কাজিনকে বিকাশে ১ টাকা ২৫ পয়সা, ২ টাকা ৫০ পয়সা করে সালামি দিয়েছিলাম। সঙ্গে ডিজিটাল গ্রিটিংস: ‘এই সামান্য সালামি তোমার ভবিষ্যৎকে অসামান্য করুক।’ ছোটরা আমার এই বদান্যতা দেখে বিরক্ত হয়ে দাঁত কিড়মিড় করত, কিন্তু অ্যাপে খুচরা টাকার গ্যাঁড়াকল না থাকায় আমার পকেট দিব্যি বেঁচে যেত। এবার দেশে যেহেতু মূল্যস্ফীতি, তাই রাত জেগে অনেক হিসাব-নিকাশ করে বাজেট একটু বাড়িয়ে জনপ্রতি পাক্কা ৩ টাকা ধার্য করলাম। নিজের এই মহানুভবতায় নিজেই মুগ্ধ হয়ে পরম শান্তিতে ঘুমাতে গেলাম। পরদিন সকাল। ঈদের নামাজ শেষে ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই দেখি আমার সালামি শিকারি কাজিন বাহিনী ওঁত পেতে বসে আছে। কোরবানির মাংস কাটার চেয়েও আমাকে কাটতে তাদের বেশি উৎসাহ। সবার চোখেমুখে বিশাল প্রত্যাশা। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুচকি হেসে মোবাইল বের করলাম। বড় চাচার ছেলে পল্টুকে টার্গেট করে তার নাম্বার সিলেক্ট করে মনে মনে ভাবলাম, ‘নে ব্যাটা, আজকে তোদের ৩ টাকা করেই দেব, বড়লোক হয়ে যা!’ কিন্তু অ্যামাউন্টের ঘরে ৩ লিখে পিন দিতে যাব, হঠাৎ স্ক্রিনে লাল অক্ষরে একটা লেখা ভেসে উঠল। লেখাটা দেখে আমার তো রীতিমতো হার্ট অ্যাটাকের জোগাড়! অ্যাপ জানাচ্ছে, ১০ টাকার নিচে কোনো লেনদেন করা যাবে না! আমি দরদর করে ঘামতে শুরু করলাম। চোখ কচলে ভাবলাম হয়তো টাইপ করতে ভুল হয়েছে। তড়িঘড়ি করে ৫ টাকা, ৭ টাকা, এমনকি ৯ টাকা ৯৯ পয়সাও লিখে চেষ্টা করলাম। কিন্তু না, সেই একই লাল সতর্কবার্তা-১০ টাকার নিচে দেওয়া অসম্ভব! বিকাশের এই নীরব আপডেট আমার মাথায় রীতিমতো বাজ ফেলল। আগে যেখানে দু-তিন টাকায় কাজ সারতাম, এখন এক ধাক্কায় সেটা দশ টাকা! আমার ঈদ সালামির বাজেট এক নিমিষেই কয়েক গুণ বেড়ে গেল। এ তো রীতিমতো জুলুম! পল্টু আমার শুকনো মুখ দেখে ফস করে বলে বসলো, ‘কী হলো ভাইয়া, সালামি আসছে না কেন? তোমার একাউন্টের ব্যালেন্স কি জিরো?’ সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বুকটা পাথর করে সবাইকে পাক্কা ১০ টাকা করেই সেন্ড করতে হলো। প্রতিবার পিন নাম্বার দেওয়ার সময় আমার কলিজার ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠছিল। কোরবানির ঈদে মানুষ গরু-ছাগল কোরবানি দেয়, আর আজ বিকাশের এই দশ টাকার নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আমার প্রিয় মানিব্যাগটাই বিনা নোটিশে কোরবানি হয়ে গেল! এই বিরাট আর্থিক শোক কাটাতে আজ দুপুরে অতিরিক্ত দুই বাটি গরুর মাংস খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে। কেএসকে

Go to News Site