Collector
রাজধানীজুড়ে চলছে পশু কোরবানি | Collector
রাজধানীজুড়ে চলছে পশু কোরবানি
Somoy TV

রাজধানীজুড়ে চলছে পশু কোরবানি

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষ হতেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে পশু কোরবানি।বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে ঢাকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবনের নিচতলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। বড়দের পাশাপাশি নতুন পোশাকে শিশু-কিশোররাও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছে। রাজধানীর বাংলামোটর, শাহজাহানপুর বাসাবো, সবুজবাগ, পল্টন, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজারের আশপাশ ধানমন্ডি, গুলশান ও বনানী, মিরপুরসহ বিভিন্ন অলিগলিতে, রাস্তার পাশে দেখা গেছে প্রায় সবাই পশু জবাইয়ের ব্যস্ত সময় পারছেন আবার কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন শিশুসহ নানা বয়সীর মানুষ। শাজহানপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হাসান বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, এটি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আমরা প্রতিবছর পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে কোরবানি করি। এতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। আরেক জন বলেন, শিশুরা সকাল থেকেই খুব আনন্দ করছে। তারা গরুর পাশে ঘুরছে এবং মাংস কাটার কাজ দেখছে। দেখে ভালো লাগছে। ছোটবেলায় আমরাও এটা করতাম। অর্থনৈতিক সাশ্রয় ও সামাজিক মেলবন্ধনের কারণে অনেকে যৌথভাবে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আরেকজন বলেন, ‘কয়েকটি পরিবার মিলে যৌথভাবে একটা গরু কোরবানি দিয়েছি। আমার মতো অনেকেই একসঙ্গে গরু কিনে কোরবানি করছেন। এতে খরচ যেমন কিছুটা কমে, তেমনি সুন্দর একটি সামাজিক মেলবন্ধনও তৈরি হয়। মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা আসকর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই তারা ৪ জন মিলে ভাগে কোরবানি দিয়েছেন। কোরবানির গরুর কাছে নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে মনে শান্তি লাগে না। বাসার সামনে কোরবানি হওয়ায় পরিবারের শিশুরা অনেক আনন্দ করছে। কসাই রবিউল বলেন, আজ দম ফেলার সময় নেই। এই গরু কেটে আরেকটার কাছে যাবো, সেখানে আরও ২টা গরু কাটতে হবে। এরপর কাঁচা বাজার এলাকায় আরও দুটি গরু কাটার কাজ আছে। সারাদিনই চলবে। নতুন পোশাক পরে বড়দের মাংস কাটার কাজ ও পশু কোরবানি দেখা এবং বড়দের সাহায্য করার মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ঈদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অতুলনীয় আনুগত্য ও আত্মত্যাগ স্মরণ করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শিক্ষা নিচ্ছেন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ সর্বত্র উন্নতি ও শান্তির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদ জামাত, আর বুক মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই ঐক্য, বছরজুড়ে অটুট রাখার প্রত্যয় মুসল্লিদের।

Go to News Site