Jagonews24
তেহরানে মার্কিন হামলার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও বেড়ে ৯১ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জল্পনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে তেহরানের অভিযোগ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই স্থাপনাটি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে না যুদ্ধ, না শান্তি পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর। বাজারে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা থাকলেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। বাজার বিশ্লেষক সাইমন-পিটার মাসাবনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ঝুঁকিও বহাল রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুতও টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো কমেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির তেলের মজুত ২৮ লাখ ব্যারেল কমেছে। সূত্র: রয়টার্স এমএসএম
Go to News Site