Collector
মাঝ সড়কে যাত্রী তুললেই মামলা, শিগগির এআই ক্যামেরায় অ্যাকশন | Collector
মাঝ সড়কে যাত্রী তুললেই মামলা, শিগগির এআই ক্যামেরায় অ্যাকশন
Jagonews24

মাঝ সড়কে যাত্রী তুললেই মামলা, শিগগির এআই ক্যামেরায় অ্যাকশন

রাজধানী ঢাকার সড়ক মানেই যেন যানজট, বিশৃঙ্খলা আর মৃত্যু ভয়। মানুষ প্রতিদিনই এসবের মুখোমুখি হয়। নগরবাসীকে যানজটের নরকযন্ত্রণা থেকে স্বস্তি দিতে সম্প্রতি ঢাকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। সড়কের মাঝে বাসে যাত্রী ওঠানো নামানো বন্ধ করা এবং এআই ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে সম্প্রতি জাগো নিউজের মুখোমুখি হয়েছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ। ডিএমপি সদর দপ্তরে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময়। জাগো নিউজ: সড়কের মাঝে যাত্রী ওঠানো নামানো বাসের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে? শারমিন জাহান: বাসস্ট্যান্ড বা বাস স্টপেজ ছাড়া সড়কের মাঝে যেসব বাস যাত্রী ওঠানো নামানো করবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া শুরু হচ্ছে। কারণ মাঝ সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো নামানো যানজটের বড় কারণ। শুধু বাস নয়, যে কোনো গাড়ি মাঝ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সিগন্যাল ছাড়াও সব সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। জাগো নিউজ: এআই ক্যামেরা চালু হলেও অনেক সড়কে তো এখনো রোড মার্কিং নেই। এতে কী সমস্যা হচ্ছে? শারমিন জাহান: অবশ্যই সমস্যা হচ্ছে। অনেক সড়কে এখনো ‘স্টপ লাইন’, ‘ইউটার্ন’, ‘বাম লেন’ কিংবা ‘জেব্রা ক্রসিং’-এর স্পষ্ট রোড মার্কিং নেই। এগুলো সিটি করপোরেশন করে দেবে। বর্তমানে সফটওয়্যারে লাইন আঁকিয়ে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আমি যখন সফটওয়্যারকে বলছি এটাই স্টপ লাইন, তখন সফটওয়্যার সেই লাইন ধরেই কাজ করছে। এজন্য এখনো সবার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে না। তবে এআই ক্যামেরা সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর করতে রোড মার্কিং খুব জরুরি। জাগো নিউজ: এআই মামলার ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ বা আপত্তির সুযোগ থাকবে কী? শারমিন জাহান: যার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে, তার মালিকের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। সেখানে একটি মোবাইল নম্বর থাকবে। যদি কেউ মনে করেন আলোচনার কিছু আছে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে এসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবেন। জাগো নিউজ: প্রতিদিন কতগুলো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা ধরা পড়ছে? শারমিন জাহান: ট্রাফিক আইন না মানার প্রচুর ফুটেজ পাচ্ছি। এর মধ্যে একদিনে ৭৪৮টি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ফুটেজ পেয়েছি। তবে এখনই সবার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে না। যারা বেশি আইন ভাঙছে, আপাতত শুধু তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। দুই-তিন মাস পরে আইন ভাঙলেই সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাগো নিউজ: মামলা সম্পর্কে মানুষ কীভাবে নিশ্চিত হবে? শারমিন জাহান: আমরা দুটি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হবে, দ্বিতীয়ত এসএমএস।ডাকযোগে পাঠানো চিঠি সরকারি কাগজ হিসেবে গণ্য হবে। ভবিষ্যতে মামলা আদালতে গেলে ডাক বিভাগকেও ব্যবহার করা হবে। পরে আমরা পুরোপুরি এসএমএস সিস্টেমে চলে যাব। জাগো নিউজ: সরকারি গাড়ির ক্ষেত্রে কি আলাদা সুবিধা থাকবে? শারমিন জাহান: এআই সরকারি গাড়ি আর সাধারণ গাড়ি আলাদা করে চেনে না। শুধু অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ওভারলুক করা হবে। বাকি সব গাড়ি আইন ভাঙলে মামলা হবে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির বিরুদ্ধেও আমরা মামলা দিয়েছি। কারণ একটি গাড়ির কারণে পেছনের অনেক গাড়ি আটকে যায়। জাগো নিউজ: কোন কোন থানায় এআই ভিডিও মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে? শারমিন জাহান: আমার ভিডিও সিস্টেমের সঙ্গে ৫০টি থানা সংযুক্ত আছে। লকআপে কয়জন আছে, মালখানায় কে আছে, কে ঢুকছে, কে বের হচ্ছে, সব মনিটর করা হচ্ছে। এমনকি থানায় কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে ডিউটি অফিসারের সঙ্গে তার কথোপকথনও ক্যামেরায় রেকর্ড হচ্ছে। কেউ যদি অভিযোগ করেন যে ডিউটি অফিসার খারাপ ব্যবহার করেছেন, তখন সিস্টেম থেকেই বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো সেবার মান আরও উন্নত করা। জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য জাগো নিউজের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। শারমিন জাহান: জাগো নিউজ পরিবারের জন্য শুভ কামনা। টিটি/এমআরএম

Go to News Site