Jagonews24
বগুড়ায় নিজ এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে বগুড়া শহরের ধরমপুর-মাটিডালি নাজিম উদ্দিন জিলাদার ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে মুশফিক ঈদগাহ ময়দানে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। তবে গত ঈদুল ফিতরের মতো এবার আর তিন প্রজন্মের একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়া হয়নি তাদের। মুশফিকুর রহিমের ছেলে শাহরোজ রহিম মায়ান হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় বাবার সঙ্গে ঈদগাহ মাঠে আসতে পারেনি। ফলে মুশফিকুর রহিম ও তার বাবা মাহবুব হামিদ তারা একসঙ্গেই ঈদের নামাজ আদায় করেন। এর আগে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করেন এই তারকা ক্রিকেটার। ঈদের নামাজ শেষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘সর্বপ্রথম এলাকাবাসী এবং দেশবাসী সবাইকে ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। সবাই যার যার পরিবারের সাথে সুস্থভাবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করে ঈদ করবেন। এবং পাড়া-প্রতিবেশী যারা গরিব, অসহায় মানুষ আছে—সবাইকে নিয়ে কোরবানি ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ ছেলে মায়ানের ঈদগাহে আসতে না পারা নিয়ে আফসোস প্রকাশ করে মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারা বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে ঈদ করাতে এমনিতেই খুব আনন্দের। পাওয়াই যায় না, একমাত্র ঈদ ছাড়া তো আমরা পাই না। নাতিটার জন্য একটু আফসোস হচ্ছে। ছেলেটার একটু গায়ে জ্বর আসছে দেখে মাঠে আসেনি। তাহলে আমরা তিন প্রজন্ম একসঙ্গে গতবারের মতন নামাজটা পড়তে পারতাম।’ আসন্ন সিরিজ নিয়ে মুশফিকের প্রত্যাশা ঈদের পরপরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। আসন্ন এই সিরিজ এবং দলের ভবিষ্যৎ খেলা নিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘ঈদের পরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা আছে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি। তো যারা খেলবে তাদের জন্য শুভকামনা। আর আমাদের ইনশাআল্লাহ সামনে আরও অনেক বড় বড় খেলা আছে; জিম্বাবুয়ের সঙ্গে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গিয়ে টেস্টও খেলা আছে। তো আমি আশা করি, আপনারা সব সময় যেভাবে বাংলাদেশ টিমের পাশে ছিলেন, ওভাবে এখনো থাকবেন এবং দোয়া করবেন।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারাও দলের জন্য শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া এখন পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দল। তবে আমরা ফাইট দিতে পারবো। বলা যায় না, টেস্ট খেলা তো, রেজাল্টও হতে পারে। দেশবাসী সবাই মিলে বাংলাদেশ টিমকে দোয়া করবেন।’ বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের উইকেটের ভূয়সী প্রশংসা করে সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরানোর তাগিদ দেন সাবেক এই অধিনায়ক। মুশফিক বলেন, ‘আমি মনে করি শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের উইকেট যদি বলেন, বাংলাদেশে ওয়ান অব দ্য বেস্ট উইকেট। তো আমি মনে করি, এরকম ভালো উইকেটে অবশ্যই খেলা হওয়া উচিত। আমি আশা করছি, এখন সংস্কারের কাজ অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। ইন্টারন্যাশনাল খেলা হওয়ার জন্য যেটা ন্যূনতম ফ্যাসিলিটিজ দরকার, সেটা যদি হয়ে যায়; ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আবার নেক্সট টাইমে আবারও ইন্টারন্যাশনাল খেলা চালু হবে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে।’ এলবি/এসআর/জেআইএম
Go to News Site