Somoy TV
ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে ঘিরে সমুদ্রসৈকত নগরী কক্সবাজারে ভ্রমণপিপাসুদের আগমন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল থেকেই দলে দলে পর্যটক সৈকতে ভিড় করতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় দর্শনার্থীরাও। সৈকতের তিনটি পয়েন্ট জুড়ে দেখা যায় ঈদ আনন্দের প্রাণবন্ত আয়োজন।সরজমিনে দেখা যায়, পর্যটকরা কেউ নেমেছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বালিয়াড়িতে। আবার অনেকে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঢাকা থেকে আসা মনির আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। আগামী ৩ দিন কক্সবাজার থাকবো। ইনানী, পাটুয়ারটেক, হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ ঘুরে বেড়াব। সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সেলফি তুলছেন ইমরান ও তাহমিনা দম্পতি। তারা বলেন, পাহাড়-সাগর ও সূর্যাস্ত উপভোগে কক্সবাজারে ছুটে আসা। সূর্য ডুবে যাচ্ছে, এটা চমৎকার একটা দৃশ্য, যা ঢাকা শহরে দেখা যায় না। এই মুহূর্ত দুজনে মিলে ক্যামেরা বন্দি করছি। ঈদের প্রথম দিন হওয়ায় পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও, শুক্রবার (২৯ মে) থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরও পড়ুন: ঈদের লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারের সেরা ১০ গন্তব্য: কোথায় যাবেন, কী দেখবেন, খরচ কত? আর পর্যটকদের ঈদ আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে তারকামানের হোটেলগুলোতে চলছে নানা আয়োজন। হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক মিশু বলেন, ৩ দিনের ফুড ফেস্টিবলের পাশাপাশি থাকছে কনসার্টের আয়োজন। যেখানে পর্যটকদের আনন্দ দিতে গান পরিবেশন করবেন দলছুট। আশা করি, ঈদ ছুটিতে যারা কক্সবাজার আসবেন তারা বেশ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এদিকে, আগত পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৮০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। পাশাপাশি ইনানি, পাটুয়ারটেক ও হিমছড়িতেও নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন আছে। দুই শিফটে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে রাত ৮টার পর পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হবে, যাতে ছিনতাইসহ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। এ লক্ষ্যে বিশেষ টিমও নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ইনানিতে অবস্থিত জোন অফিসের মাধ্যমে ইনানি, পাটুয়ারটেক ও হিমছড়ি এলাকায় সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
Go to News Site