Collector
এই মাংসের বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই কোরবানি দিতে পারেনি! | Collector
এই মাংসের বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই কোরবানি দিতে পারেনি!
Somoy TV

এই মাংসের বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই কোরবানি দিতে পারেনি!

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে যখন ঘরে ঘরে কুরবানির আনন্দ, ঠিক তখনই কুমিল্লা নগরীতে বসে এক ব্যতিক্রমী বাজার। এই বাজারের বিশেষত্ব হলো, এখানে যারা মাংস বিক্রি করেন এবং যারা কিনতে আসেন, উভয়ই মূলত কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য থেকে বঞ্চিত মানুষ। নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংসই বিক্রি হয় এই অস্থায়ী বাজারে।প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় ও পুলিশ লাইন এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষজন বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে পাওয়া মাংস নিয়ে বাজারে আসেন। কেউ শ্রমের পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া মাংস বিক্রি করেন, আবার কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করা মাংস এনে বিক্রি করেন।অন্যদিকে, যারা আর্থিক সংকটের কারণে কুরবানি দিতে পারেননি কিংবা বাজারমূল্যে মাংস কিনতে অক্ষম, তারাও ভিড় করেন এই বাজারে। তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনে পরিবারের জন্য ঈদের খাবারের ব্যবস্থা করেন তারা।স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরেই ঈদের দিন নগরীতে এমন বাজার বসছে। অনেকের কাছে এটি এখন ঈদের দিনের পরিচিত দৃশ্য। যদিও বাজারটির কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নেই, তবুও দরিদ্র মানুষের জন্য এটি যেন এক অঘোষিত সহায়তার জায়গা হয়ে উঠেছে।আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির শহর কুমিল্লানগরীর ছোটরা কলোনির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, কুরবানি দিতে পারি না। পরিবারের পাঁচজন মিলে ঈদের দিন বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মাংস সংগ্রহ করি। আজ ১২ কেজি মাংস পেয়েছি। এর মধ্যে তিন কেজি নিজেদের জন্য রেখেছি, বাকি ৯ কেজি ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি।’মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, চারজন মিলে দুটি বাসায় গরু জবাইয়ের কাজ করেছি। টাকার পাশাপাশি কিছু মাংসও দিয়েছে। সংসারের প্রয়োজনেই সেগুলো বিক্রি করতে এসেছি।শুভপুর এলাকার রাফিয়া বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গেলে মাংস পাওয়া যায়। সব মাংস নিজেদের খেয়ে শেষ করা সম্ভব না। তাই কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছি।’ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল স্বস্তির ছাপ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, যিনি চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরে পরিবার নিয়ে থাকেন, তিনি বলেন, ‘বেতন কম হওয়ায় এবার কুরবানি দিতে পারিনি। তাই এখান থেকে মাংস কিনতে এসেছি। প্রায় তিন কেজি মাংস ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছি।’এই ব্যতিক্রমী বাজার একদিকে যেমন দরিদ্র মানুষের অর্থসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দেও কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

Go to News Site