Collector
উন্নয়নে ‘সমন্বয়হীনতার’ মাশুল গুনছে বান্দরবান পৌরবাসী | Collector
উন্নয়নে ‘সমন্বয়হীনতার’ মাশুল গুনছে বান্দরবান পৌরবাসী
Jagonews24

উন্নয়নে ‘সমন্বয়হীনতার’ মাশুল গুনছে বান্দরবান পৌরবাসী

সমন্বয়হীন উন্নয়ন ও চরম অব্যবস্থাপনায় ভুগছেন বান্দরবান পৌরবাসী। ঘন ঘন সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগ বাড়ছে। দীর্ঘ ৪১ বছরেও তৈরি হয়নি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। ফলে শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সুপেয় পানির উৎস সাঙ্গু নদীর তীরে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে ৬০ হাজার নগরবাসীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবমিলিয়ে ভোগান্তির নগরে পরিণত হয়েছে বান্দরবান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায়ই নগরজুড়ে সড়ক উন্নয়নের চিত্র চোখে পড়ে। তবে কিছু মাস না যেতেই সেবার নামে শুরু হয় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। তখন খানাখন্দে চলাচল করতে পৌরবাসীর দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বর্ষায় এসব খানাখন্দে জমি দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ‘বান্দরবান পৌর এলাকায় সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যে সড়ক উন্নয়ন হয়, তা নষ্ট হয়ে যায় অন্য বিভাগের খোঁড়াখুঁড়িতে। মূলত সমন্বয়হীনতার কারণে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর’ বান্দরবান পৌরসভা/ছবি-জাগো নিউজ ১৯৮৪ সালে বান্দরবান পৌরসভা গঠিত হয়েছে। তবে ৪২ বছরেও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পৌরসভাটিতে জনসংখ্যার পরিমাণ ৪০ হাজার। তবে বর্তমানে তা বেড়ে ৬০ হাজারেরও অধিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। অলি-গলি থেকে পৌরসভা নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করলেও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় তা স্তূপ করা হচ্ছে পৌর এলাকার লেমুঝিরি এলাকার সাঙ্গু নদীর তীরে। এতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে এই বর্জ্য সরাসরি নদীতে মিশছে। নির্দিষ্ট পার্কিং না থাকায় সড়কের পাশেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয় গাড়ি/ছবি-জাগো নিউজ বান্দরবান পৌর এলাকা অতি ব্যস্ততম শহর না হলেও পর্যটন শহর হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি না থাকায় বাসস্টেশন, ট্রাফিক মোড়, হীলবার্ড, রাজারমাঠ, হাইস্কুল গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অপরিকল্পিত ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার ও জিপ-মাইক্রোবাস স্টেশন। ফলে প্রশাসনিক এলাকার সামনে সড়কের দুই পাশে এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এতে প্রতিদিনই যানজট তৈরির পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনা। ‘৬-৭ মাস আগে পৌরসভা থেকে সড়ক মেরামত করা হয়। সেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এদের করা গর্তে পড়ে অনেকেরই হাত-পা ভেঙেছে। এমনকী আমিও আহত হয়েছি’ পৌরবাসীর ভোগান্তির আরেক কারণ ড্রেনেজ সমস্যা। সম্প্রতি পৌর এলাকার প্রতি ওয়ার্ডে নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। এসব ড্রেনের মধ্যে কিছু ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক লেভেলে। ফলে টানা ২-৩ দিনের বৃষ্টিতে পৌর এলাকার ব্রিগেড এলাকা, আর্মিপাড়া, বনরুপা পাড়া, মেম্বার পাড়া, হাফেজ ঘোনা, ম্যাজিস্ট্রেট করোনিসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে ড্রেনে ময়লা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ। ফলে বেড়েছে মশার উপদ্রব। পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য/ছবি-জাগো নিউজ স্থানীয় জহির রায়হান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বান্দরবান পৌর এলাকায় সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যে সড়ক উন্নয়ন হয়, তা নষ্ট হয়ে যায় অন্য বিভাগের খোঁড়াখুঁড়িতে। মূলত সমন্বয়হীনতার কারণে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর।’ পৌরসভার রোয়াংচড়ি বাসস্টেশন-কালাঘাটা সড়কটি নিরিবিলি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই শরীরচর্চা করতে ওই সড়ক দিয়ে যান ইউটিং মং। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়কটির লেমুঝিরি এলাকায় বর্জ্যের দুর্গন্ধে পথ চলা কষ্টকর। ডাম্পিং স্টেশনটি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে এগুলো ধুয়ে সরাসরি নদীতে পড়ছে। এতে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি।’ আরও পড়ুন: বগুড়ার হাটে হাটে ‘হাসিল সন্ত্রাস’হাওরে হাসির বদলে কান্নার ঈদসিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থালিচুর ভারে ভেঙে পড়ছে ডাল, ঈশ্বরদীতে রেকর্ড ফলনআইলার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁধের অপেক্ষায় ১৭ বছরপরিকল্পনা-ভ্যাকসিনেশনে খুলতে পারে গবাদি পশু রপ্তানির দুয়ার নিউগুলশান এলাকার বাসিন্দা মংকিং সাই মারমা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬-৭ মাস আগে পৌরসভা থেকে সড়ক মেরামত করা হয়। সেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এদের করা গর্তে পড়ে অনেকেরই হাত-পা ভেঙেছে। এমনকী আমিও আহত হয়েছি।’ একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেম্বারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর সুমন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই বান্দরবান পৌর এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন হয়। তার কিছুদিন পরেই অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অন্য প্রকল্পের জন্য খনন বা কাটা শুরু করে। এতে গ্রীষ্মকালে ধুলা-বালি আর বর্ষাকালে কাদা ও খানাখন্দে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।’ ‘প্রতি বছরই বান্দরবান পৌর এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন হয়। তার কিছুদিন পরেই অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অন্য প্রকল্পের জন্য খনন বা কাটা শুরু করে। এতে গ্রীষ্মকালে ধুলা-বালি আর বর্ষাকালে কাদা ও খানাখন্দে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না’ ৪২ বছরেও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে যত্রতত্র ফেলা হয় বর্জ্য/ছবি-জাগো নিউজ পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ভাড়ায়চালিত গাড়িগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও সড়কের ওপর ফেলে রাখেন অনেকেই। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বান্দরবান বাজার এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের তেমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।’ বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা সুফল চাকমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যৌথ কর্মপরিকল্পনা না থাকায় একই স্থানে বারবার উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। এসব অপরিকল্পিত উন্নয়নে যেমন নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এ বিষয়ে জানতে বান্দরবান পৌর প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ড্রেন নির্মাণের জন্য চলছে খোঁড়াখুঁড়ি/ছবি-জাগো নিউজ বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে পৌরসভার রোয়াংছড়ি বাসস্টেশনের পূর্ব পাশে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সমন্বয় সভায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যত্রতত্র পার্কিং বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন বোর্ড থেকে নির্মিত বাস স্টেশনটির চুক্তি সম্পন্ন হলে পার্কিং ব্যবস্থা সমস্যার সমাধান হবে। ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়নে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পার্বত্য জেলা হওয়ার সুবাদে জেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ এবং গণপূর্ত বিভাগ থেকে জনকল্যাণে উন্নয়ন কাজ করে থাকে। তবে এসব উন্নয়ন জেলা পরিষদে মাসিক সভায় উত্থাপন করা হলে সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমবে, তেমনি জনদুর্ভোগও লাঘব হবে। এসআর/জেআইএম

Go to News Site