Collector
ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝে ট্রাম্প কেন ওমানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন? | Collector
ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝে ট্রাম্প কেন ওমানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন?
Somoy TV

ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝে ট্রাম্প কেন ওমানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের চলাচল সংক্রান্ত বিরোধে জড়ালে দেশটিকে উড়িয়ে দেয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানে নতুন করে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেই তিনি এই হুমকি দিলেন।বুধবার (২৭ মে) ওমানকে ‌‘উড়িয়ে দেওয়ার’ বিষয়ে ট্রাম্পের এই হুমকি এমন এক সময়ে এল, যখন জানা গেছে যে, ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল তদারকির বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়।ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) বৈঠক চলাকালে এই প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা। ওমানকেও আর সবার মতোই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।’তবে, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক প্রণালী হলেও এর বেশিরভাগ অংশই কেবল ইরান এবং ওমানের নিজস্ব জলসীমায় অবস্থিত, কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমায় নয়। এর বাইরের কিছু অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত।হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের অধিকার কার?উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উন্মুক্ত মহাসাগরে রফতানি পণ্য পাঠানোর একমাত্র প্রাকৃতিক জলপথ হওয়ায়, এই প্রণালীটি কয়েক দশক ধরে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর, তেহরান এই জলপথ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি এর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করতে শুরু করে। এমনকি তারা মাঝেমধ্যে জাহাজ প্রতি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল বা মাশুল আদায় করে।আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ হরমুজের মতো প্রাকৃতিক প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করতে পারে না, এমনকি সেই প্রণালীটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত না হলেও। তবে, দেশগুলো চাইলে জাহাজ পরিচালনাকারীদের বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে পারে, যেমন—বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ডকিং (জাহাজ ভেড়ানোর) সুবিধা।গত বুধবার ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ঠিক কিছুক্ষণ আগে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, তেহরান এবং মাস্কাট যৌথভাবে এই প্রণালীটি নিয়ন্ত্রণ করবে। এই প্রস্তাবে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কথা বলা হয়েছে, তবে সেটিকে ‘টোল’ বা মাশুল না বলে ‘সেবা ফি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই সমঝোতা স্মারকের দাবিটিকে ‘‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি এটাই ইঙ্গিত করে যে, ইরান ও ওমানের মধ্যকার এমন কোনো সমঝোতা ঠেকাতেই মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট চেষ্টা করছেন।‘মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স’ এর নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মুহানাদ সেলুম আল জাজিরাকে বলেন, ‘‘ওয়াশিংটন আসলে যা ঠেকাতে চাচ্ছে তা হলো— প্রশাসনিক ও আইনি পোশাক পরিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রেরই এক আরব মিত্রের সমর্থন নিয়ে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক বা বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।’’একটি ছোট মিত্র দেশকে হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে মূলত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকেই একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাহলো- ইরানকে কোনো ধরণের সমর্থন বা আড়াল দেওয়া যাবে না।ট্রাম্প কি সত্যিই ওমানকে হুমকি দিয়েছিলেন?ক্যাবিনেট বৈঠকে একজন সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান— কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্য তদারকিতে ওমান এবং ইরানের যৌথ ভূমিকার বিষয়ে তাঁর ভাবনা কী?জবাবে ওয়াশিংটনের ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা ওমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন ‘‘উড়িয়ে দেওয়ার’’ প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন তখন প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে, তিনি হয়তো ভুলবশত ‘ইরান’ বলতে গিয়ে ‘ওমান’ বলে ফেলেছেন।তবে, পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্যটি শেয়ার করে। সেখানে ট্রাম্পের বক্তব্যের যে অনুলিপি দেওয়া হয়, তাতে স্পষ্টভাবেই ৫৩ লাখ জনসংখ্যার দেশ ‘ওমান’-এর কথাই উল্লেখ ছিল।অবশ্য, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের সাথে যোগ দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য আছে— এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়ে ওমান এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওমানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকির’’ পর ইরান ওমানের পাশে দাঁড়িয়েছে।সমালোচকরা ট্রাম্পের এই হুমকিকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ডন’-এর অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রায়েদ জারার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে একজন ‘‘মাফিয়া ডন’’-এর বক্তব্যের সাথে তুলনা করেছেন।জারার আল জাজিরাকে বলেন, ‌‌‘‘জাতিসংঘের সনদে যেকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অন্য সবার মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও একইভাবে প্রযোজ্য।‘’একটি আরব দেশকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া— কেবল এই কারণে যে তার জলসীমা এমন একটি তেল রুটের পাশে অবস্থিত যা ওয়াশিংটন পুনরায় চালু করতে চায়—আসলে সেই একই আইনহীন মানসিকতা যা গত ফেব্রুয়ারিতে এই যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট একটি সংকেত যে, এই প্রশাসন যদি কোনো যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাও করে, তবে তা কেবল ততটুকুই স্থায়ী হবে, যতক্ষণ না প্রেসিডেন্ট পরবর্তী কোনো ক্যাবিনেট বৈঠকে আবার নিজের মেজাজ হারাচ্ছেন।লন্ডনের কিংস কলেজের ওয়ার স্টাডিজের ভিজিটিং লেকচারার সামির পুরি বলেন, ‘‘ওমানের প্রতি ট্রাম্পের এই হুমকি ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।’’তিনি বলেন, ‘‘আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব বা সংঘাতগুলো থেকে দূরে থাকতে এবং মধ্যস্থতায় সহায়তা করতে ওমান অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করে আসছে।’’ওমানের ওপর বোমা বর্ষণ করলেই যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের চিন্তাভাবনায় কোনো পরিবর্তন আসবে—এমনটা আমি একেবারেই মনে করি না।মার্কিন-ইরান আলোচনার অগ্রগতি কেমন?ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো সামনে এলো। বারবার সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুদেশের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই পক্ষই শান্তির জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময় করেছে। এরই মধ্যে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীও এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করেছে। আরও পড়ুন: ট্রাম্প: রাজনীতিবিদ নাকি জুয়াড়ি?অবশ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান— কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেনি। তবে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‌‘তাসনিম’ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের একটি ট্যাংকারসহ চারটি জাহাজ রাডার বন্ধ করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্কতামূলক গুলি বর্ষণ করে।আইআরজিসি আরও জানায়, আজ ভোরে ইরানের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছের একটি এলাকায় মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে তারা একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে বর্ণনা করেছে।এদিকে বৃহস্পতিবার কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা মোকাবেলা করছে।’ আইআরজিসি এই হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেনি, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে যে, এটি একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।পাশাপাশি, ট্রাম্প সম্প্রতি এই শান্তি আলোচনাকে আঞ্চলিক মিত্রদের এবং পাকিস্তানের একটি প্রতিশ্রুতির সাথে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন; যেখানে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য তাদের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষর করতে হবে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করেছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে ইসরাইলের সম্মতি ছাড়া পাকিস্তান বা সৌদি আরব এতে সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। আর ইসরাইল এরইমধ্যে তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।মার্কিন-ইরান যুদ্ধে ওমানের ভূমিকা কেমন ছিল?মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি দুই দেশের মধ্যকার পারমাণবিক আলোচনার একজন প্রধান মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে আলবুসাইদি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পথ সুগম করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছিলেন।ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দিন, অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ভ্যান্সের সাথে বৈঠক চলাকালীন আলবুসাইদি বলেছিলেন, এই আলোচনা থেকে সৃজনশীল ও গঠনমূলক চিন্তাভাবনা এবং প্রস্তাব উঠে এসেছে; যা অভূতপূর্ব অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপে’ চীন-যুক্তরাষ্ট্র, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প আকস্মিকভাবে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে। কারণ ‘তাঁর মনে হয়েছিল’ ইরানই আগে আঘাত হানবে। একই সাথে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল। অবশ্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। আলবুসাইদি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক আলোচনায় আসলে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছিল।কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন মিত্রদের মতো ওমানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি বা সেনা মোতায়েন নেই। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরান একের পর এক হামলা চালালে ওমান অনিচ্ছাকৃতভাবেই এই সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। গত ১ মার্চ ওমানের মধ্যাঞ্চলীয় আল উস্তা গভর্নরেটে অবস্থিত দুকম বাণিজ্যিক বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এর দুদিন পর আরেকটি ড্রোন হামলায় বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।সে সময় ট্রাম্প এই উপসাগরীয় দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘‘ইরান এমন সব দেশে আঘাত হানছে, যাদের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কোনো সম্পর্কই নেই।’’মার্কিন-ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের জন্য ওমান কেন গুরুত্বপূর্ণ?‘মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স’-এর বিশ্লেষক সেলুম বলেন, ওমান হলো উপসাগরীয় অঞ্চলের একমাত্র দেশ, যেটি একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা অংশীদার এবং ইরানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত আরব মধ্যস্থতাকারী।শান্তিকালীন সময়ে এই দ্বিমুখী অবস্থান একটি বড় সম্পদ বা শক্তি। কিন্তু যুদ্ধকালীন সময়ে এটি একটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়, আর ঠিক এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতিটিই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি।এই বিশ্লেষক যুক্তি দেখান যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ‘‘বাস্তবতার চেয়ে একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা মাত্র।‘’ তিনি বলেন, ‘‘ওমানের আসল উদ্দেশ্য ইরানের এই অবরোধের অংশীদার হওয়া নয়; বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যস্থতা করে এই প্রণালীটি পুনরায় চালু করা।’’ আরও পড়ুন: আমেরিকার দুর্বল মুহূর্তে চীনের বড় চালতবুও, সেলুমের মতে, ইরান এবং ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে— এমন সম্ভাবনা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনটি কারণে শঙ্কিত করে তুলছে। প্রথমত, এটি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল রুটের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে যুদ্ধের একটি সাময়িক পদক্ষেপের পরিবর্তে যুদ্ধ-পরবর্তী একটি স্থায়ী বাস্তবতায় রূপ দেবে; দ্বিতীয়ত, এটি একটি নতুন নজির বা উদাহরণ তৈরি করবে যে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো (যাদের সীমানা কোনো বিশাল জলভাগের সাথে লেগে থাকে) একটি আন্তর্জাতিক জলপথকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ ও তা থেকে অর্থ উপার্জন (টোল আদায়) করতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিত করা ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নীতিকে ক্ষুণ্ণ করবে; এবং তৃতীয়ত, এটি তেহরানকে এমন একটি কৌশলগত বিজয় এনে দেবে যা যেকোনো যুদ্ধবিরতির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত— এই তিন কারণেই ওমানের গুরুত্ব এখন অনন্য। আর ঠিক এই কারণেই দেশটি এই সংঘাতের একদম সামনের সারিতে চলে এসেছে। কারণ এই যুদ্ধের পরিধি এখন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।

Go to News Site