Collector
সাভারের শিল্পনগরীতে ঢুকেছে ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া | Collector
সাভারের শিল্পনগরীতে ঢুকেছে ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া
Jagonews24

সাভারের শিল্পনগরীতে ঢুকেছে ৪০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া

ঈদুল আজহার প্রথম দিনে ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে ঢুকতে শুরু করেছে কাঁচা চামড়া। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। তবে দর নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সরেজমিন চামড়া শিল্প নগরীতে গিয়ে শিল্প নগরীতে চামড়া প্রবেশ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যায়নি। ঈদের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শিল্প নগরীতে চামড়া প্রবেশ ও সঠিকভাবে এর সংরক্ষণ নিশ্চিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দুদিনে আরও বাড়বে চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ। চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত মোট ১৯২টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে এসেছে ৪৩ হাজার ৮৬৭টি কাঁচা চামড়া। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ৪৩ হাজার ৫১৪টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৩৫৩টি। শিল্পনগরীতে আসা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলছে। এছাড়া চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় সার্বিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চামড়া প্রবেশের এই পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিল্প নগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বপালনরত কর্মীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সর্বপ্রথম কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে একটি গাড়ি শিল্প নগরীতে প্রবেশ করে। মূলত দিনের প্রথম ধাপে আসা এসব চামড়ার বেশিরভাগই রক্তমাখা কাঁচা চামড়া। আড়ত ও ট্যানারিতে চামড়াগুলো প্রবেশের পর তাতে লবণ মাখানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ীর দাবি, সরকার নির্ধারিত দাম অনুপাতে রক্তমাখা কাঁচা চামড়ার দাম যতটা হওয়া প্রয়োজন, সেই অনুপাতে অনেক কম দাম প্রস্তাব করছেন আড়তদাররা। তবে ট্যানারিগুলোতে চামড়া নিয়ে আসা বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধি এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়তের তুলনায় ট্যানারিতে তারা ভালো দর পাচ্ছেন। আবার যেসব ট্যানারির সঙ্গে তাদের পূর্বের সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে তারা এই মুহূর্তে দাম নিয়ে আলোচনা ছাড়াই চামড়া লবণজাত করার জন্য রেখে যাচ্ছেন। কিছুদিন পর ট্যানারি কর্তৃপক্ষের ডাক পেলে এসে দাম নির্ধারণ করবেন তারা। তবে এক্ষেত্রে যারা এই পদ্ধতিতে ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করেন, তাদের দাবি ট্যানারিতে দর নিয়ে তাদের খুব বেশি জটিলতা পোহাতে হয় না। হেমায়েতপুরের চামড়ার আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‌‘সমস্যা হচ্ছে অর্থসংকট। আমাদের প্রচুর টাকা ট্যানারিগুলোতে বাকি পড়ে আছে। নগদ প্রবাহ কম থাকায় এবং যেহেতু আমরা লোন ফ্যাসিলিটিও পাই না, কাজেই চামড়া বেশি এসে পড়লে দেখা যায় কিনতে সমস্যা হয়ে যায়। তবে মোটাদাগে আমরা সবসময় চেষ্টা করি সরকার নির্ধারিত মূল্যের অনুপাতেই দাম দেওয়ার। আবার চামড়ার সাইজ এবং মানও নির্ভর করে দর বিবেচনার ক্ষেত্রে।’ ট্যানারি মালিকরা বলছেন, একসময় এই সময়ে চামড়া কেনার ক্ষেত্রে যেই ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো, এখন সেটি নেই। ব্যবসায়িক মন্দা, ক্রমাগত দরপতন, রপ্তানির ক্ষেত্রে এককভাবে চীন নির্ভরতা এবং লোকসান—সব মিলিয়ে অনেক ব্যবসায়ী বড় অংকের লোকসান গুনেছেন। আবার লোকসানের মুখে পড়ে ঋণখেলাপিও হয়েছেন অনেকে। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই দফায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এরইমধ্যে পাঁচ হাজারের মতো চামড়া চলে এসেছে। মূলত আমাদের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের সূত্রে যারা চামড়া নিয়ে আসছেন, তাদের চামড়াগুলোই কিনছি। কেননা এখনো আমার কারখানায় ৫০ হাজার পিসের ওপরে চামড়া স্টকে রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো হলে সেটি সবার জন্যই কল্যাণকর হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনকি অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাদের মূলধন এরইমধ্যে অর্ধেক হয়ে গেছে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বছর কমবেশি এক কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে ভলিউম বেচাকেনাটা রাতে হওয়ার কারণে দিনের বেলা যেভাবে একটা চামড়া দেখে নেওয়া যায়, রাতে তো সেটা পারা যায় না। ফলে তখন দর কম হলে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। এবারও ভলিউম বেচাকেনা রাতেই হবে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কেট পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।’ মাহফুজুর রহমান নিপু/এসআর

Go to News Site