Collector
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানলে পাকিস্তানের সব পাসপোর্ট নতুন করে ছাপাতে হবে! | Collector
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানলে পাকিস্তানের সব পাসপোর্ট নতুন করে ছাপাতে হবে!
Somoy TV

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানলে পাকিস্তানের সব পাসপোর্ট নতুন করে ছাপাতে হবে!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তি আরও বিস্তৃত করতে চাইছেন এবং আরও বেশি মুসলিম দেশকে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের জন্য অপ্রত্যাশিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ এসব দেশের পাসপোর্টে বর্তমানে ইসরাইলে যাওয়া নিষিদ্ধ।মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত সোমবার (২৫ মে) বলেন, ইরানের সঙ্গে তিন মাসের যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে আরও বেশি মুসলিম দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে হবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি। ট্রাম্প বলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করা এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া তাদের জন্য ‘আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক’ হতে পারে। তিনি যেসব দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হল- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইন। যদি ট্রাম্প এই শর্তে অটল থাকেন, তাহলে পাকিস্তানের জন্য এটি বিশেষভাবে সমস্যাজনক হবে। কারণ বর্তমানে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ এরই মধ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়ার প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সৌদি আরব ও কাতারও একই অবস্থান নিয়েছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলে পাকিস্তানকে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এর ফলে সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের পাসপোর্টেও পরিবর্তন আসবে। আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝে ট্রাম্প কেন ওমানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন? কারণ পাকিস্তানের পাসপোর্টে এখন স্পষ্ট লেখা থাকে: ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, শুধু ইসরাইল ছাড়া।’ এই কথাটি পাসপোর্টের মূল পাতায় বড় করে ছাপা থাকে। এটি শুধু ভ্রমণের বাস্তব নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিরও প্রতীক। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও লিবিয়াসহ খুব কম কয়েকটি দেশের পাসপোর্টে এমন একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা লেখা থাকে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি এসব দেশ চুক্তিতে যোগ না দেয় তাহলে তারা ‘এই চুক্তির অংশ হওয়ার যোগ্য নয়’, কারণ এতে তাদের ‘খারাপ উদ্দেশ্য” প্রমাণিত হবে। এতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রথম আরব দেশ হিসেবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করে। পরে মরক্কো ও সুদান যোগ দেয়। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিতে যোগ দেয়ার পর এসব দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সমাজে ‘বিরাট উন্নতি’ হয়েছে। পাকিস্তানের ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকার বলে আসছে, ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না। পাকিস্তান পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। আরও পড়ুন: ইসরাইলের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক’ চান ট্রাম্প, এর অর্থ কী? আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো কয়েকটি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে এগুলো তৈরি হয়। প্রথমে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এতে যোগ দেয়। পরে সুদান, মরক্কো এবং সাম্প্রতিক সময়ে কাজাখস্তান যোগ দিয়েছে। এই চুক্তিগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করত এটি ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ তৈরি করবে। কংগ্রেসে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান সমর্থক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চাপের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এক্স-এ (টুইটার) বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমার কাছে স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা খুবই সমস্যাজনক। ইসরাইলের প্রতি তাদের বিরোধিতা অনেক পুরনো।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন — যে তারা কখনো যোগ দেবে না কারণ ইসরাইলকে বিশ্বাস করে না — সেই ভিডিওটি হয়তো এক বছরের পুরনো, কিন্তু আমার আশঙ্কা সেই মনোভাব এখনও তাজা আছে।’ আরও পড়ুন: ইরানের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে যদি পাকিস্তান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে পাসপোর্টের ‘ইসরায়েল ছাড়া’ এই শর্তটি সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিকল্প থাকবে:- পুরোপুরি নতুন ডিজাইনের পাসপোর্ট ছাপানো- বিদ্যমান পাসপোর্টে স্ট্যাম্প বা এন্ডোর্সমেন্ট দিয়ে সংশোধন করা- পুরনো পাসপোর্টগুলো ধীরে ধীরে বাতিল করে নতুন করে দেয়া তবে পাসপোর্টগুলো মেশিন-রিডেবল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত। তাই সবচেয়ে সহজ ও পরিষ্কার সমাধান হবে নতুন করে পুরোপুরি নতুন পাসপোর্ট ছাপানো।

Go to News Site