Somoy TV
সংসদের শেষ চেয়ার থেকে একেবারে আইনসভার শীর্ষপদে। সময় লেগেছে ৪০ বছর। তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। শহীদ জিয়া থেকে বেগম জিয়া হয়ে তার পথচলা তিন প্রজন্মের সঙ্গে। দেশের রাজনীতির বিভিন্ন বাঁকে উত্থান-পতনের সাক্ষী এই নেতা মনে করেন, বিএনপির নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্যের-উন্নয়নের আর সহনশীলতার। ঈদের ছুটির আগে সময় সংবাদকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি।আপসহীন নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা ও পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে শুরু করে আজ অবধি বাংলাদেশের জনগণের কাছে চিরভাস্বর হয়ে আছেন গণমানুষের নেত্রী হয়ে। স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর তার গড়া দল বিএনপির হাল ধরেছিলেন মহিয়সী এই নারী। রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপিকে করেছেন সুসংগঠিত। তারই ধারাবাহিকতায় দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণকারী প্রতিথযশা রাজনীতিকদের ভিড়িয়ে ছিলেন দলে। তাদেরই একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, যিনি বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও, বেগম জিয়ার অনুরোধ ফেলতে পারেননি এই নেতা। যোগ দিয়েছিলেন বিএনপিতে। এরপরের যাত্রায় শুধুই এগিয়ে চলা, রাজনীতির বিভিন্ন বাঁকে। মেজর হাফিজ বলেন, ‘সংসদের প্রথম দিন সবশেষ সারিতে বসেছিলাম। সেখান থেকে স্পিকার চেয়ার পর্যন্ত ৫০ গজ পথ পেরোতে ৪০ বছর সময় লেগেছে। বেগম জিয়ার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি আজও অমলিন। ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে আমি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমিশন লাভ করি। ক্যাপ্টেন জিয়াউদ্দিন কাকুল এক বাসায় নিয়ে গেলেন, সেটা মেজর জিয়াউর রহমানের বাড়ি। তিনি দরজা খুলে আমাকে স্বাগত জানালেন। সেই সময় একটি নাশতার ট্রলি ঠেলে গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া ড্রইং রুমে প্রবেশ করলেন। প্রথম দর্শনে তাকে দেখে বিমোহিত হয়ে গিয়েছিলাম। তার ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধ—সবকিছুই আমাকে অত্যন্ত আকর্ষণ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে ঢাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিকেলে এবিএস সাবদার আমাকে এসে বলেন- বেগম খালেদা জিয়া আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান। বিকেলের দিকে আমি তার সঙ্গে গেলাম বাসায়। প্রথম দিনেই তিনি আমাকে আহ্বান জানালেন বিএনপিতে যোগদানের জন্য। আমি বললাম- ম্যাডাম, সবেমাত্র এসেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমি একটু হাওয়া বুঝে নেই। পরে আরও একদিন তিনি আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, সেদিন আমি বলেছি- ঠিক আছে।’ ষাটের দশক থেকেই জিয়া পরিবারের সঙ্গে সর্ম্পক ছিল হাফিজ উদ্দিনের। যুদ্ধের মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে, তিনি কাজ করেছেন তিন প্রজন্মের সঙ্গে। অতীত অভিজ্ঞতায় তাই সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্নে আজও বিভোর এই জ্যেষ্ঠ নেতা। আরও পড়ুন: দেশকে আরও ভালো জায়গায় নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘তিন প্রজন্মের স্টাইল তিন রকম। জিয়াউর রহমান ফৌজি জেনারেল ছিলেন, যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। সততা, দেশপ্রেম এবং কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি তাকে স্পর্শ করতে পারেননি। এগুলো হলো তার জন্য প্লাস পয়েন্ট। বেগম জিয়া হলেন জনগণের নেত্রী। তার অতুলনীয় জনপ্রিয়তা— দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাঁচটি আসনে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকবার প্রত্যেকটি আসনে বিজয়ী হওয়া। এই জনপ্রিয়তা অন্য কোনো রাজনীতিকের ভাগ্যে জোটেনি। অপরদিকে তারেক রহমান হলেন সদ্যমাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার শুরুটা ভালো হয়েছে। এখন আরও অনেক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, বিশেষ করে দুর্নীতি দূর করে এবং এই দলের বিশাল কর্মী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রেখে তাকে কিছু উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।’ শহীদ জিয়া আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এতোটা পথ চলা বিএনপি, আগামীতেও পথ হারাবে না বলে বিশ্বাস হাফিজ উদ্দিনের। তার মতে, বাবা-মায়ের মত করে সন্তানও বজ্র কঠিন নেতৃত্বে সমুন্নত রাখবেন দলের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা। স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতায় যারা যায়, এদের অনেক স্তাবক জুটে যায় আশেপাশে। তারা দলের মূল নেতাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বহুলাংশে নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার ওপরে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে যদি বিএনপি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে দেশের জনগণের জন্য সুসময় অপেক্ষা করে আছে।’ দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, সংসদ; সর্বোপরি আগামীর বাংলাদেশ নিয়েও বেশ আশাবাদী আইনসভার নেতৃত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
Go to News Site