Somoy TV
আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অবরুদ্ধ গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে এই ভূখণ্ডের প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে, ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত ও ভয়াবহ যৌন সহিংসতা চালানোর দায়ে ইসরাইলকে যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় চলছে নির্বিচার বোমাবর্ষণ। প্রতিদিনই ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে একের পর এক আবাসিক ভবন। দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন থেকে রেহাই পাচ্ছে না অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র। শুক্রবার (২৯ মে) রাতেও গাজা সিটির একটি শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। অবরুদ্ধ উপত্যকার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পরও, আগ্রাসনের মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে আয়োজিত কনফারেন্সে তিনি জানান, গাজার নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও পড়ুন: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার পরিকল্পনা ইরানের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর নগ্ন হামলার বার্তা দিলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে হামাসকে চারদিক থেকে চেপে ধরছি। এখন গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছি আমরা। প্রথমে ৫০ শতাংশে ছিলাম, এরপর ৬০ শতাংশে এসেছি। আমার নির্দেশ হলো সামনে এগিয়ে যাওয়া। প্রথমত ৭০ শতাংশ; এটা দিয়েই শুরু করা যাক। আমরা সবদিক থেকে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি। এদিকে, গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে জাতিসংঘ। ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর পদ্ধতিগত এবং ব্যাপক আকারে যৌন সহিংসতা চালানোর অভিযোগে ইসরাইলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের নারী ও শিশু-বিষয়ক বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ও যাচাইকৃত এই অপরাধের জন্য ইসরাইলকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেয়া উচিত ছিল। জাতিসংঘের এই কঠোর পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এই সিদ্ধান্তের পর, জাতিসংঘের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি দূত। আরও পড়ুন: লেবাননে থামছে না ইসরাইলি আগ্রাসন, নিহত আরও ৪ তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরাইলি ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন পাশবিক ও পদ্ধতিগত যৌন নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। শুধু জাতিসংঘই নয়, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের দায়ে ৪টি সংস্থা ও ৩ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই তালিকায় চরমপন্থি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং তাদের সমর্থনকারী সংগঠনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Go to News Site