Somoy TV
বিশ্বের ১৩টি দেশের একটি দেশ বর্তমানে রয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের হুমকিতে। মানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১১ জনের মধ্যে ১ জনকে যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার এমন বৈরী পররাষ্ট্রনীতি এখন আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নতুন করে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ওমানের ওপর ট্রাম্পের হুমকির পরেই নেটিজেনদের মধ্যে উঠেছে সমালচনার ঝড়।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের জেরে অচল হয়ে পড়ে এই প্রণালী। সম্প্রতি ইরানি গণমাধ্যমে খবর আসে, ওমানকে সঙ্গে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং শুল্ক আদায়ের একটি খসড়া চুক্তি করেছে তেহরান। আর এই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওমানকে সতর্ক করেন। বলেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো দেশকে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে দেয়া হবে না। ওমানকে অন্য সবার মতোই নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যথায় তাদের ‘উড়িয়ে দেয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরনো এবং বিশ্বস্ত কৌশলগত মিত্রের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন আকস্মিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব মার্কিন প্রশাসন ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝে ট্রাম্প কেন ওমানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ ধারণা করছেন, ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প হয়তো ভুলবশত ইরানের জায়গায় ওমানের নাম উচ্চারণ করেছেন। কারণ এর আগেও তিনি ইরানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলাকে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস কিংবা পররাষ্ট্র দফতর ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্যের মূল ভিডিও এবং অনুলিপি প্রকাশ করেছে। এই ঘটনাটি মূলত ট্রাম্পের সুপরিচিত ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা খামখেয়ালি পররাষ্ট্রনীতিরই বহিঃপ্রকাশ, যা দিয়েই তিনি প্রতিপক্ষকে তটস্থ রাখতে ভালোবাসেন। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাম্প তার দুই মেয়াদে বিশ্বের অন্তত ১৫টি দেশকে হয় আক্রমণ করেছেন, নয়তো আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১১ জনের মধ্যে একজনকে যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলেছে। মানে বিশ্বের ১৩টি দেশের একটি দেশ বর্তমানে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধের হুমকিতে। শান্তি চুক্তির আলোচনার মধ্যেই ওমানকে দেয়া এই নজিরবিহীন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল এবং জ্বালানি বাজারকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলবে কি না, সেটাই দেখার বিষয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
Go to News Site