Somoy TV
কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদারীপুর পৌরসভায় ইউনিয়নের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া মহাসড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে বাতাসের সঙ্গে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে রোগবালাই। আশপাশের এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর শহরের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ভ্যানে করে এনে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এরপর তা ফেলা হচ্ছে মাদারীপুর-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশেই। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। পথচারী ও যাত্রীদের নাক-মুখ চেপে চলতে হচ্ছে। ময়লা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। পথচারী রফিক মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। কিন্তু ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে গেছে। নাক চেপে ধরে চলতে হয়। আমরা এর প্রতিকার চাই। ইজিবাইকের যাত্রী করিম মাতুব্বর বলেন, মাদারীপুর পৌরসভার ময়লা ফেলা হয় পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায়। এটি বড় ধরনের অন্যায়। এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে, দুর্গন্ধে রোগবালাইও বাড়ছে। আরও পড়ুন: ডাস্টবিনে ময়লা ফেললেই মিলবে টাকা জানা যায়, দেড়শো বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় এখনো কোনো আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা হলেও অপসারণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে টানা বৃষ্টিতে বর্জ্যের পানি ছড়িয়ে পড়ছে ফসলি জমি ও পুকুরে। এতে পরিবেশ দূষণ ও রোগবালাই বাড়ছে। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন যাত্রী, চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। বর্জ্য অপসারণে ১১১ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ৩০ জন ভ্যান ও ট্রাকচালক কাজ করছেন। ১৯৯১ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও ৩৫ বছরেও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট গড়ে ওঠেনি; এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। সচেতন নাগরিক কমিটির মাদারীপুরের সভাপতি খান মো. শহীদ বলেন, দেড়শো বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় এখনো আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন না থাকা দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে দুই লাখ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। তবে শিগগিরই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানু বলেন, এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে। আগামী অর্থবছরেই বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে এই প্রকল্প।
Go to News Site