Collector
কসাই সংকটে ঈদের পরদিন কোরবানি দিচ্ছেন অনেকেই | Collector
কসাই সংকটে ঈদের পরদিন কোরবানি দিচ্ছেন অনেকেই
Jagonews24

কসাই সংকটে ঈদের পরদিন কোরবানি দিচ্ছেন অনেকেই

পবিত্র ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও রাজধানীর কিছু এলাকায় ঈদের পরদিন শুক্রবারও (২৯ মে) পশু কোরবানি দিতে দেখা গেছে। তবে ঈদের দিনের তুলনায় কোরবানির সংখ্যা ছিল অনেক কম। পূর্ব রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া ও খিলগাঁও তালতলা এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। শুক্রবার সকালেই এসব এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গরু ও ছাগল কোরবানি দিতে দেখা যায়। কোথাও পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কোথাও আবার স্থানীয় কসাইদের সহায়তায় চলছে পশু জবাই। তবে ঈদের দিনের মতো ব্যস্ততা, মানুষের ভিড় কিংবা একসঙ্গে একাধিক পশু কোরবানির দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়েনি। পূর্ব রামপুরা এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের দিন কসাই পাইনি। যারা ছিল তারা অনেক বেশি টাকা চাচ্ছিল। তাই আজকে একটু নিরিবিলি সময়ে কোরবানি দিলাম। ইসলামে তো তিনদিন পর্যন্ত কোরবানি দেওয়ার সুযোগ আছে।’ একই এলাকার আরেক বাসিন্দা ইসরাফিল বলেন, ‘ঢাকায় ঈদের দিন কসাই পাওয়া কঠিন। আমি তিনজন কসাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু কেউ ঈদের দিন সময় দেননি। শুধু নিজেরা তো গরু কোরবানি দেওয়া সম্ভব না। তাই পরিবারের পরামর্শে আজ কোরবানি দিয়েছি।’   মালিবাগ হাজীপাড়া এলাকায় দেখা যায়, একটি গরু কোরবানির পর কয়েকজন মিলে মাংস কাটাকাটি করছেন। এদের একজন কসাই পাপ্পু বলেন, ‘ঈদের দিনের তুলনায় আজ পরিবেশ অনেক শান্ত থাকায় কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল আমরা সাতটা গরু কাটার কাজ করেছি। এনারা গতকাল কাজ করে দিতে বলেছিলেন, কিন্তু আমরা সময় করতে পারিনি। তাই আজ সকাল সকাল এসে কাজ করে দিচ্ছি।’  হাজীপাড়ার বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ‘গতকাল কসাই পাইনি। তাছাড়া কোরবানি দেওয়ার সময় অনেক ভিড় ছিল। আজকে অনেক স্বস্তিতে কাজ করা যাচ্ছে। কোরবানি তো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়। একদিন পরে হলেও যদি ভালোভাবে করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ খিলগাঁও তালতলা এলাকায় একটি বাসার সামনে কোরবানি গরুর মাংস কাটতে দেখা যায় কয়েকজনকে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকজন। তাদের একজন ফারজানা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম ঈদের দিন গরু কোরবানি দেওয়ার জন্য। কিন্তু কসাই না পাওয়ার কারণে গতকাল দিতে পারিনি।’ পাশ থেকে লিয়াকত আলী নামের একজন বলেন, ‘ঈদের দিন হোক বা ঈদের পরের দিন হোক যেদিনই কোরবানি দেওয়া হয়, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেওয়া হয়। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আল্লাহর নামে কোরবানি দিয়েছি। এখন কবুল করার মালিক আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তিনদিন পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া যায়। প্রতিবছর আমরা ঈদের দিন গরু কোরবানি দেই। কিন্তু এবার কসাই না পাওয়ার কারণে একদিন পর কোরবানি দিতে হলো। আজ পরিবেশ বেশ ঠান্ডা। নিরিবিলি পরিবেশে কোরবানি দিতে পারছি। আকাশও পরিষ্কার।’ আব্দুল হালিম নামের এক কসাই বলেন, ‘ঢাকায় অধিকাংশ কোরবানি গতকাল হয়ে গেছে। আজ অল্প কিছু কোরবানি হচ্ছে। আজ আমাদের কাজের চাপও কম। আজ এই একটা কাজই আছে। গতকাল ৬টা গরু ও ৪টা ছাগল কাটার কাজ করেছি।’ এমএএস/এমএমএআর

Go to News Site