Somoy TV
২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাফানা বাফানা খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন নতুন দুই মুখ ডিফেন্ডার অলওয়েথু মাখানিয়া ও ব্র্যাডলি ক্রস। আর দলটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বড় শিরোপা জেতা দুই ক্লাব মামেলোদি সানডাউনস ও অরল্যান্ডো পাইরেটসের ফুটবলাররা।দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে সানডাউনস ও পাইরেটস দুই ক্লাব থেকেই জায়গা পেয়েছেন আটজন করে খেলোয়াড়।গত রোববার কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মরক্কোর ফার রাবাতকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে সানডাউনস।এর একদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকান প্রিমিয়ারশিপের চ্যাম্পিয়ন হয় অরল্যান্ডো পাইরেটস। ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো লিগ জিতে তারা সানডাউনসের টানা আটটি শিরোপা জয়ের আধিপত্য ভেঙে দেয়।বাফানা বাফানাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক কাইজার চিফসের গোলরক্ষক ব্র্যান্ডন পিটারসেনের বাদ পড়া। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি ক্লাবকে পাইরেটস ও সানডাউনসের পর তৃতীয় স্থানে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আরও পড়ুন: চোটগ্রস্ত নেইমারের বদলি নিতে কতদিন সময় পাবে ব্রাজিল, ফিফার নিয়ম কী বলছে?দুই মাস আগে পানামার বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য তার ডাক পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের কারণে তিনি ছিটকে যান।কোচ হুগো ব্রুস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই দলটিকেই ধরে রেখেছেন, যারা ১৬ বছর পর ‘বাফানা বাফানা’কে আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে তুলেছিল। তবে ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ প্লেমেকার থেম্বা জোয়ানেকেও দলে রেখেছেন তিনি।২৬ সদস্যের দলে ১৯ জনই স্থানীয় লিগে খেলেন। ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড় আছেন পাঁচজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে খেলেন দুজন। দল ঘোষণার পর দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ও স্টাফের সঙ্গে খেলোয়াড়রা। ছবি: রয়টার্স১১ জুন সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর গ্রুপ ‘এ’-তে তাদের প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র (১৮ জুন, আটলান্টা) ও দক্ষিণ কোরিয়া (২৪ জুন, মনতেরে)।প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়া ২২ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক মাখানিয়া খেলেন মেজর লিগ সকারের ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নে। অন্যদিকে ২৫ বছর বয়সী ব্র্যাডলি ক্রস, যিনি একসময় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের একাডেমিতে ছিলেন, বর্তমানে সোভেতোভিত্তিক ক্লাব কাইজার চিফসের লেফট-ব্যাক।বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের কেউই খেলেননি। তবে রক্ষণভাগে বিকল্প বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দুই ডিফেন্ডারকে দলে নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত লেফট-ব্যাক অব্রি মোদিবাও দলে আছেন, যদিও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তিনি সানডাউনসের হয়ে সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ খেলতে পারেননি। আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে উল্লেখযোগ্য যারা বাদ পড়লেনআক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন বার্নলির স্ট্রাইকার লাইল ফস্টার। আর বল নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতার কারণে থেম্বা জোয়ানেকে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ ব্রুস।দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার অংশ নেওয়ার পর তারা আবার ২০০২ সালে যোগ্যতা অর্জন করে এবং ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনও করে। তবে প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দল:গোলরক্ষক: সিফো চেইনে (অরল্যান্ডো পাইরেটস), রিকার্ডো গস (সিওয়েলেলে), রনওয়েন উইলিয়ামস (মামেলোদি সানডাউনস);ডিফেন্ডার: অব্রি মোদিবা, খুলিসো মুদাউ, খুলুমানি এনদামানে (সবাই সানডাউনসের), কামোগেলো সেবেলেবেলে, এনকোসিনাথি সিবিসি (দুজনই পাইরেটস), ব্র্যাডলি ক্রস (কাইজার চিফস), সামুকেলে কাবিনি (মোলদে/নরওয়ে), অলওয়েথু মাখানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন/যুক্তরাষ্ট্র), থাবাং মাতুলুদি (পোলোকওয়ানে সিটি), এমবেকেজেলি এমবোকাজি (শিকাগো ফায়ার/যুক্তরাষ্ট্র), ইমে ওকন (হ্যানোভার/জার্মানি);মিডফিল্ডার: অসউইন অ্যাপোলিস, থালেন্তে এমবাথা, রেলেবোহিলে মোফোকেং (সবাই পাইরেটস), জেডেন অ্যাডামস, তেবোহো মোকোয়েনা, থেম্বা জোয়ানে (সবাই সানডাউনস), স্পেহেফেলো সিথোলে (তোনদেলা/পর্তুগাল);ফরোয়ার্ড: এভিডেন্স মাকগোপা, ছেপাং মোরেমি (দুজনই পাইরেটস), লাইল ফস্টার (বার্নলি/ইংল্যান্ড), থাপেলো মাসেকো (এইইএল লিমাসল/সাইপ্রাস), ইকরাম রেইনার্স (সানডাউনস)।
Go to News Site