Collector
দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ময়মনসিংহের পর্যটন স্পট | Collector
দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ময়মনসিংহের পর্যটন স্পট
Jagonews24

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ময়মনসিংহের পর্যটন স্পট

ঈদুল আজহার ব্যস্ততা আর কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই বিনোদনের খোঁজে ঘর থেকে বের হতে শুরু করেছেন মানুষ। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই ময়মনসিংহ নগরী ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠেছে। পরিবার, বন্ধু কিংবা স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন বয়সি মানুষ ভিড় করছেন নগরীর জনপ্রিয় পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী জয়নুল আবেদিন পার্ক ও ব্রহ্মপুত্র নদপাড় এলাকায়। এছাড়া শশী লজ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিপিন পার্ক এবং মুক্তাগাছা রাজবাড়ীতেও দিনভর দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকেই জয়নুল আবেদিন পার্কে বাড়তে থাকে মানুষের চাপ। পার্কজুড়ে ছিল শিশুদের কোলাহল, তরুণদের আড্ডা আর পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে আসা মানুষের আনন্দঘন পরিবেশ। কেউ নদীর পাড়ে বসে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন, আবার অনেকে সামাজিক মাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করছেন। ব্রহ্মপুত্র নদপাড়েও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। হালকা বাতাস আর মনোরম আবহাওয়া উপভোগ করতে শহরের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা থেকেও ছুটে আসেন এখানে। সন্ধ্যার দিকে পুরো নদপাড় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আমেজ। ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। ঐতিহাসিক স্থাপনা শশী লজে গিয়ে দেখা যায়, ইতিহাস ও পুরোনো স্থাপত্য দেখতে আগ্রহীদের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো। তরুণ-তরুণীদের অনেকে সেখানে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত। অন্যদিকে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তাগাছা রাজবাড়ীতেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। রাজবাড়ীর পুরোনো স্থাপত্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন অনেকেই। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ছিল ভিন্ন এক চিত্র। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসের লেকপাড় ও সড়কগুলোতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেককে দলবেঁধে হাঁটতে, আড্ডা দিতে ও ছবি তুলতে দেখা যায়। নগরীর আকুয়া এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা গৃহিণী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ঈদের পরদিন সবাইকে নিয়ে একটু বাইরে বের হয়েছি। বাচ্চারা অনেক আনন্দ করছে। শহরের পরিবেশও অনেক সুন্দর লাগছে। বন্ধুদের সঙ্গে জয়নুল পার্কে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী রাফিন ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক দিন পর একসঙ্গে সময় কাটাতে পারছি। নদপাড়ের পরিবেশটা সত্যিই উপভোগ করার মতো। মধুপুর থেকে রাজবাড়ী দেখতে এসেছেন মৃদুল হাসান। তিনি বলেন, জমিদার বাড়ি দেখতে এসেছি। জায়গাটা আসলেই অনেক সুন্দর। কিছুক্ষণ ঘোরাফিরা করে মন্ডা খেয়ে চলে যাবো। রাজবাড়ীতে ঘুরতে আসা আরেক স্কুলছাত্রী নুসরাত জাহান বলে, রাজবাড়ী নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। আজ সামনে থেকে দেখে খুব ভালো লাগছে। জায়গাটা অনেক সুন্দর। নদপাড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান চালানো আবুল কাশেম বলেন, ঈদের দিন থেকেই মানুষের ভিড় বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। ছুটির দিনে এমন পরিবেশ থাকলে ব্যবসাও জমে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল ও বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর চাপ বেড়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ বিভিন্ন স্পটে সক্রিয় আছে। হোসাইন সুলভ/এএইচ/এমএস

Go to News Site