Jagonews24
ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটা ফাঁকা। নাড়ির টানে লাখো মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি পাড়ি জমিয়েছে। ফলে ঢাকার সড়কে যানচলাচল খুবই কম। তবে রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। যান্ত্রিক এই নগরীতে বিনোদনকেন্দ্রের সীমাবদ্ধতায় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যান এখন ঢাকার মানুষের অন্যতম প্রধান বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, জিয়া উদ্যানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোলের শিশু থেকে শুরু করে কিশোর, তরুণ, প্রৌঢ়— সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা। জনসমাগম দেখে মনে হচ্ছিল এটি যেন কোনো বিনোদনকেন্দ্র। দর্শনার্থীরা লেকের পাড়ে হাঁটছেন, কেউবা উদ্যানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে মোবাইল ফোনে সেলফি ও ছবি তুলে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন। আরও পড়ুনকুয়াকাটায় পর্যটক খরা, খালি পড়ে আছে হোটেলের বেশিরভাগ কক্ষ শিশুদের উচ্ছ্বাসে প্রাণ পেলো হাতিরঝিল নতুন পোশাকে সজ্জিত পরিবার-পরিজনদের নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই দলবেঁধে চটপটি ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন স্ট্রিট ফুড উপভোগ করছেন। জিয়া উদ্যানকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশে বিপুল জনসমাগম এবং যানবাহনের আধিক্য দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে প্রতিটি সিগন্যালে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজধানীর তেজগাঁও থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে আসা সরোয়ার আলী জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকায় বিনোদনকেন্দ্রের বড্ড অভাব। একসময় শাহবাগের শিশুপার্ক ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার পছন্দের জায়গা ছিল, যা উন্নয়নের নামে গত কয়েক বছর বন্ধ। বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশমূল্য ও প্রতিটি রাইডের ফি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই অল্প খরচে পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য জিয়া উদ্যানকেই বেছে নিয়েছি। তেজগাঁও মনিপুরিপাড়ার রাস্তায় যানজটে আটকে বিরক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক আমির আলী। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের বায়না মেটাতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম দ্রুত নামিয়ে দিয়ে যাত্রী নিয়ে বের হবো। কিন্তু যানজটে আটকে মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো। উদ্যানে অতিরিক্ত জনসমাগমের সুযোগে স্ট্রিট ফুডের দোকানিরাও তাদের খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। লালবাগ থেকে আসা বশির ও তার বন্ধুরা চটপটি খেতে গিয়ে ১০০ টাকা দাম শুনে হতবাক হন। সাধারণের সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকে খাবার কেনা থেকে বিরত থাকছেন। তবে দোকানিরা বলছেন, তারা ক্রেতাকে দাম বলে তবেই অর্ডার সার্ভ করছেন। কেউ খেতে না চাইলে তাকে বাধ্য করছেন না। এমইউ/কেএসআর
Go to News Site