Somoy TV
প্রায় ১০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশে ফিরে নতুন সংসার গড়ার স্বপ্ন ছিল হবি মিয়া পাইকের। বাড়ির পাশেই কিনেছিলেন জমি। দুই মেয়েকে কাছে রেখে বাকি জীবন কাটানোর পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ইরাকে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত হওয়ার ৭৪ দিন পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি।শুক্রবার (২৯ মে) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হবি মিয়া পাইক ওরফে মোহাম্মদ শ্রাবণের মরদেহ বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় তার বাড়িতে নেয়া হলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেলেও তা শুধু নিথর দেহ হয়ে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী খাদিজা আক্তার নিতু, বৃদ্ধ মা ও স্বজনরা। শেষবারের মতো একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারি হয়ে ওঠে। বাদ জুমা বকুলতলা স্কুল মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। নিহতের স্ত্রী খাদিজা আক্তার নিতু জানান, ইরাকে বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। কাগজপত্র ও টিকিট জটিলতার কারণে অনেক দেরি হয়েছে। এতদিন শুধু অপেক্ষা করেছি, কখন মানুষটাকে শেষবারের মতো দেখতে পাবো। আরও পড়ুন: সৌদি প্রবাসীকে ৮ টুকরা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানাল ডিএমপি পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের দুই সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদরের বকুলতলা এলাকার বাসিন্দা হবি মিয়া পাইক ২০১৬ সালে উন্নত জীবনের আশায় ইরাকে যান। সেখানে নিজের নাম পরিবর্তন করে মোহাম্মদ শ্রাবণ নামে বসবাস করতেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে সেখানে কাজ করছিলেন তিনি। আরও পড়ুন: বিয়ের কেনাকাটায় বেরিয়ে গাড়িতেই ওমান প্রবাসী ৪ ভাইয়ের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু গত ১৬ মার্চ পরিবারের কাছে খবর আসে ইরাকে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন হবি মিয়া। এরপর থেকেই অপেক্ষার প্রহর গুনছিল পরিবার। বিশেষ করে তার দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (১৬) ও নাফিজা জাহান আলিশা (৯) প্রতিদিন বাবার মরদেহ দেশে ফেরার খবর জানতে চাইত। অবশেষে ৭৪ দিন পর বাড়ি ফিরলেন হবি মিয়া। তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
Go to News Site