Somoy TV
ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথার ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই, বরং তারা শুধু বাস্তব পদক্ষেপকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।আজ শুক্রবার (২৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নিশ্চয়তা বা কথার ওপর বিশ্বাস করি না—শুধু কার্যক্রমই মূল্যায়নের মানদণ্ড।’ গালিবাফ আরও বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং আমরা (ইরান) নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করি এবং প্রয়োজনে তা মিসাইলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করি। আলোচনায় আমরা কেবল তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘অন্য পক্ষ কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও কোনো পদক্ষেপ নেবে না।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, ভবিষ্যতের যে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ‘জয়ী সেই পক্ষই হবে, যারা পরদিন থেকেই যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকে।’ এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ থেকে সরে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। আজ শুক্রবার (২৯ মে) ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে এক ফোনালাপে এ অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি থেকে সরে না এলে চুক্তি হবে না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরাঘচি মনে করেন চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অতিরিক্ত দাবি’ এবং ‘পরস্পরবিরোধী ও পরিবর্তনশীল অবস্থান’ থেকে সরে আসতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব শর্ত ও অবস্থানের কারণে আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থায়ী কোনো সমঝোতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে। এর আগে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে তার অবস্থান ও দাবি বা শর্তের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড। আজ শুক্রবার (২৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ খুলে দিতে হবে এবং সেখানে থাকা সব ধরনের সমুদ্র মাইন অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন ‘নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।’ আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য উপকরণ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে হবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনায় আরও কিছু বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যেগুলো ‘তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ শুক্রবার (২৯ মে) তিনি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসবেন। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। কম গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে।’ তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’ চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে দু’পক্ষের তরফেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি ট্রাম্প।
Go to News Site