Collector
সিচুয়েশন রুম বৈঠকেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ট্রাম্প | Collector
সিচুয়েশন রুম বৈঠকেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ট্রাম্প
Somoy TV

সিচুয়েশন রুম বৈঠকেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার চুক্তি নিয়ে এগোবেন কি না, তা নিয়ে শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। খবর এপির।ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম শান্তির পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই অগ্রগতিকে ‘খুব কাছাকাছি’ বলে অভিহিত করেন। চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। কম গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে।’ তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আমি এখন সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’ তবে প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এবং প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকা ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতেই সই করবেন যা তার বেঁধে দেয়া ‘রেডলাইন’ বজায় রাখবে এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় রাশ টানবে। আরও পড়ুন: যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কতদূর এগিয়েছে? এদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ‘হুমকির ভাষা’ বা মৌখিক আশ্বাসে বিশ্বাসী নয়, বরং ওয়াশিংটনের বাস্তব পদক্ষেপ দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের শর্তগুলোকে একতরফা দাবি বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সির মতো ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খসড়া চুক্তিতে পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসের কোনো শর্ত নেই, তবে হরমুজ প্রণালি সচল করার বিপরীতে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত তিন মাসের এই যুদ্ধকে মার্কিন বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদেরা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি ‘কৌশলগত বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই সংঘাতের কারণে মার্কিন শেয়ার বাজারে ধস, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও সার শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানি শাসনব্যবস্থা আরও কট্টরপন্থী ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এ কারণে যুদ্ধের কোনো মূল লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি ওয়াশিংটন। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের কথায় আস্থা নেই, কাজে প্রমাণ দিতে হবে: বাঘের গালিবাফ সম্ভাবনাময় এই চুক্তির সমান্তরালেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম অবিশ্বাসের জেরে মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের একাধিক ড্রোন ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি করেছে, যার জবাবে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস। অন্যদিকে ওমান যেন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে কোনো শুল্ক চুক্তি না করে, সেজন্য ওমানকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত` নাজুক করে তুলেছে।

Go to News Site