Jagonews24
ঈদের ছুটি ও উৎসবের আমেজের মাঝেও চিকিৎসার আশায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমইউ) হাসপাতালে ছুটে এসেছেন অসংখ্য রোগী। তবে বহির্বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হতে দেরি হওয়ায় তাদের অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল রোগীদের সুবিধার্থে ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। স্বাভাবিক সময়ে সকাল ৮টায় কার্যক্রম শুরু হলেও ছুটির দিনের এই পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা ছিল না। পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে সকাল ৮টার আগেই রোগীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। ফলে সকাল ১০টা বাজার আগেই ফটকের সামনে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) সকাল ৮টায় সরেজমিনে বহির্বিভাগের সামনে বেশ কিছু রোগীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারও কোলে অসুস্থ শিশু, কেউ আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার আশায় এসেছেন। অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিশু। নয় মাস বয়সী অসুস্থ শিশুকন্যাকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন এক বাবা। শিশুটির সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে হাম আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রথমে জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়া দেখা দিলে তাকে আইসিডিডিআর,বি-তে চিকিৎসা করানো হয়। পরে বাড়িতে ফেরার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে মাতুয়াইল মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে হাম শনাক্ত হওয়ার পর তাকে মহাখালীর সিটি করপোরেশন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিন দিন আইসিইউসহ মোট সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঈদের আগের দিন তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তিনি জানান, হামের কারণে শিশুটির পেট ফুলে গেছে এবং লিভারের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার আশায় শনিবার ভোরে তাকে বিএসএমইউতে নিয়ে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে জানতে পারেন চিকিৎসকরা সকাল ১০টায় রোগী দেখবেন। এদিকে অসুস্থ শিশুকন্যা সুমাইয়াকে চিকিৎসক দেখাতে ভোলা থেকে সরাসরি ঢাকায় নিয়ে এসেছেন তার বাবা-মা। তারা জানান, তাদের মেয়ে হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। গতকাল হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ভোলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দেন। কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার এক পরিবারও সকাল ৮টায় চিকিৎসক বসবেন মনে করে ভোরেই হাসপাতালে চলে আসে। কিন্তু সেখানে এসে তারা জানতে পারেন, বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা শুরু হবে সকাল ১০টায়। ঈদের ছুটির মধ্যেও চিকিৎসাসেবার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক ধরনের উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকের অভিযোগ পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে আরও কার্যকরভাবে প্রচারণা চালানো হলে রোগীদের এ ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হতো। এমআরএম
Go to News Site