Somoy TV
অলঙ্কারের বাজারে এখন স্বর্ণ যেন সোনার হরিণ। শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবেই নয়, বরং লাভজনক বিনিয়োগ এবং দেশের রিজার্ভের মূল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই মূল্যবান ধাতু। অস্থির বৈশ্বিক বাজারেও এটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬১ হাজার ৮১৯ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছায়। পরে দামের ওঠানামার মধ্যে ২৫ মে তা দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। অথচ ২০২১ সালের শুরুতে এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকারও নিচে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫৩৯ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ মার্কিন ডলার। প্রতি মার্কিন ডলার সমান ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হলে দেশে এক ভরি স্বর্ণের দাম হওয়ার কথা ২ লাখ ২৯ হাজার ২৯৭ টাকা। তবে বর্তমানে দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ৫ শতাংশ ভ্যাট। যা গিয়ে ঠেকছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ২৭ টাকায়। এমন মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন স্বর্ণ কেনার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে দাম বেড়ে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেলেও দেশে স্বর্ণের ব্যবহার কমেনি; বরং বিশ্ববাজারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামেই দেশে মূল্যবান ধাতু কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে ব্যবসায়ও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসার অবস্থা এখন খুবই খারাপ। দাম আজ কমে, কাল বাড়ে; এই পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাও কমে গেছে। তার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। আরও পড়ুন: ডলার-বন্ড নাকি স্বর্ণ, অস্থির বাজারে কোনটি সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়? তবে বাজুসের দাবি, স্বর্ণের দাম বাড়লেও এর ব্যবহার মোটের ওপর কমেনি। বরং অনেকেই বিদেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার কিনে আনার দিকে ঝুঁকছেন। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খানের দাবি, বিদেশের তুলনায় দেশে স্বর্ণের দামে এত পার্থক্যের অন্যতম কারণ হচ্ছে কর ও ভ্যাট কাঠামো। তিনি বলেন, মূলত এক ভরি স্বর্ণ আমদানি করতে খরচ রয়েছে, সেটা ডিলারের কাছ থেকে নেয়ার সময় ভ্যাট দিতে হয়। পরে সেই স্বর্ণ দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করার সময় আবারও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করে সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়। এতে ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা; কেউই বাড়তি লাভ করেন না। কিন্তু এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে স্বর্ণের দামে পার্থক্য তৈরি হয়। এই মূল্য ব্যবধানের পেছনে মূলত বিদ্যমান সরকারি নীতিই দায়ী। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলও। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে দৈনিক গড়ে ২৩০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ লেনদেন হয়েছে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে ৪৪ শতাংশ সরবরাহ আসে বিভিন্ন দেশের স্বর্ণালঙ্কার খাত থেকে। এই সম্ভাবনাময় বাজারে অংশীদার হতে স্বর্ণ আমদানির নীতিগত জটিলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, আমদানির খরচ অনেক বেশি। এছাড়া ভ্যাটের সমস্যা রয়েছে। এরপর একাধিক সংস্থার উপস্থিতিতে স্বর্ণ খালাস করতে হয়। এসব জটিলতার কারণে একজন আমদানিকারক বা ডিলারের জন্য স্বর্ণ আমদানি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে দেশের ক্রেতাদের বঞ্চিত করে বিদেশি বাজার ধরতে চান না ব্যবসায়ীরা। তাই মধ্যবিত্তের নাগালে স্বর্ণালঙ্কার রাখতে আসন্ন বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিল করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট ২ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাজুস। এনামুল হক খান বলেন, বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতি চালু আছে। আমরা চাই এটি পরিবর্তন করে শতাংশের ভিত্তিতে নয়, প্রতি ভরিতে ২ হাজার টাকা নির্ধারিত ভ্যাট আদায় করা হোক।
Go to News Site