Somoy TV
গরু-মহিষের ফেলে দেয়া নাড়িভুঁড়ি বা ওমাসম রফতানি করে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো থেকে চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে এটি রফতানি করছেন ব্যবসায়ীরা। উন্নতমানের স্যুপ ও সালাদ তৈরিতে এই ওমাসম ব্যবহার করা হয়।কোরবানির পর গরু-মহিষের ফেলে দেয়া নাড়িভুঁড়ি সংগ্রহ করে প্রতি স্তরে স্তরে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রফতানির উপযোগী করা হয়। চট্টগ্রামের চামড়ার আড়ত আতুরার ডিপোতে বর্তমানে শ্রমিকরা দলে দলে এ কাজ করছেন। লবণ দিয়ে ড্রামে সংরক্ষণের পর প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় নিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। এই নাড়িভুঁড়ি উন্নত বিশ্বে স্যুপ ও সালাদ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। একসময় গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি বা ওমাসম খাল-বিলে ফেলে দেয়া হতো। কিন্তু এখন তা বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি ধাপে ভালোভাবে লবণ দিতে হয়। প্রথমে ময়লা পরিষ্কার করা হয়, এরপর লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। আকার অনুযায়ী দাম নির্ধারণ হয়; ছোট হলে কম, বড় হলে বেশি। এটি কেজি হিসেবে রফতানি হয়। চীনে এটি বিশেষভাবে প্রসেস করা হয়, যা বাংলাদেশে এখনও সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন: চামড়া সংরক্ষণে সাভারে স্বস্তি, ঢাকার বাইরে দাম না পাওয়ার অভিযোগ প্রায় ২০ বছর আগে মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামের এক ব্যবসায়ী প্রথম চট্টগ্রাম থেকে ওমাসম রফতানি শুরু করেন। বর্তমানে আতুরার ডিপোকে কেন্দ্র করে ৮ থেকে ১০ জন রফতানিকারক, ৩০ জন সাপ্লাইয়ার এবং কয়েক হাজার শ্রমিক এই খাতে কাজ করছেন। সাপ্লাইয়ার মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, মাসে যদি ১০টি চালান যায়, তাহলে আয় হয় প্রায় ৩০ কোটি টাকার মতো। বছরে এই খাতের আয় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। আরেক সাপ্লাইয়ার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, এটি সম্পূর্ণ দেশীয় লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানি করা হয় এবং এতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাও রয়েছে। বছরে ৫০ থেকে ৬০ কন্টেইনার ওমাসম চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চীন, হংকং, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়, যার বাজার মূল্য অন্তত ৩০০ কোটি টাকা।
Go to News Site