Somoy TV
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর সংশ্লিষ্টতা যতটা অনুমান করা হয়, তার চেয়ে আরও অনেক গভীর ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিক থেকে শুরু করে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত ছিল বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে সূত্রদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নেতৃত্বে পরিচালিত বিমান অভিযানে আমিরাতের সম্পৃক্ততা আগে যা জানা গিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তীব্র হামলা চালায়। তেহরান অভিযোগ করে যে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রচেষ্টায় সাহায্য করছে। তবে অন্য দেশগুলোর তুলনায় ইরান আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ চালিয়েছে। ইরান আমিরাতের ওপর ২,৮০০-এরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা ইসরাইলসহ অন্য কোনো দেশের উপর চালানো হামলার চেয়ে অনেক বেশি। ইউএই কি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করেছিল? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএই’র হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে এবং দুই দেশই তাদের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান যখন আমিরাতের তেল-গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তখন তার জবাবে কিছু হামলা ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় করা হয়। আসালুয়েহে ইসরাইলের হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে বলে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছিল যে, তাদের ঘাঁটি কোনো আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান যখন তাদের ওপর ব্যাপক হামলা শুরু করে, তখন তাদের অবস্থান বদলে যায়। হামলা নিয়ে ইউএই-সৌদির মতপার্থক্য ইরানের হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত কঠোর অবস্থান নেয় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ সামরিক অভিযানের পক্ষে ছিল। কিন্তু সৌদি আরব এই প্রস্তাবে উৎসাহ দেখায়নি এবং হামলার বিরোধিতা করে। সৌদি আরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করে আমিরাতকে হামলা বন্ধ করতে চাপ দেওয়ার জন্য। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইউএই’র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এই সন্ত্রাসী হামলা এবং এর ফলাফলের জন্য ইরান সম্পূর্ণ দায়ী।’ সৌদি আরব এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউসও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সৌদি আরব ইরানের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে কম ও কম ক্ষতিকর হামলার শিকার হয়েছে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা করেছে, কিন্তু অনেক কম আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছে। ইউএই-ইসরাইল সম্পর্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে যুদ্ধকালীন সময়ে ইউএই ও ইসরাইলের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির কথা উঠে এসেছে। ইরানের হামলা থেকে আমিরাতকে রক্ষায় ইসরায়েল আয়রন ডোম ব্যাটারি এবং সেনা পাঠিয়েছিল বলে জানা গেছে। ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তারা — প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মোসাদ প্রধান, শিন বেত প্রধান এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রধান — যুদ্ধের সময় গোপনে আমিরাত সফর করে ইরান বিষয়ে সমন্বয় করেছেন।
Go to News Site