Jagonews24
নাজিফা রাসেল স্বপ্না ঈদের চাঁদ উঠেছিল আকাশ জুড়ে,ঘরে ফেরার স্বপ্ন ছিল চোখে চোখে।মায়ের জন্য শাড়ি, শিশুর জন্য খেলনা,কেউ জানেনি পথেই থেমে যাবে জীবনের চলা।বাস ছুটেছিল, লঞ্চ ভেসেছিল নদীর বুকে,প্রিয়জনেরা অপেক্ষায় ছিল দুয়ার খুলে।কিন্তু হঠাৎ এক সংবাদ ঝড় হয়ে এলো—ঈদের আনন্দ ছাপিয়ে শোকের কালো মেঘ ঢলো।কোথাও সড়কে রক্ত, কোনো নদীতে ভেসে উঠে লাশ,নিভে গেলো কত প্রাণ, করলো ঈদের খুশির নাশ!যে ছেলে বলেছিল, “মা, কালই ফিরছি বাড়ি”,সে ফিরল ঠিকই, তবে নীরব কাফনের গাড়ি।নতুন জামা পড়ে যে শিশু বাবার পথ চেয়ে রয়,ঈদের সকাল জুড়ে তার চোখে শুধু অশ্রু ক্ষয়।বৃদ্ধ বাবা দরজায় বসে, চেয়ে থাকে দূর গাঁয়ে,যে সন্তান ফিরবে বলে কথা দিয়েছিল, সে আর না-ই আসে।ঈদ তো ছিল মিলনের, ভালোবাসার গান,তবু কত পরিবারের বুকে জেগেছে শূন্যতার টান।সেমাইয়ের হাঁড়ি চুলায়, কিন্তু হাসি নেই ঘরে,সাজানো ঈদের সকাল হারিয়ে গেছে অশ্রুধারে।এই দেশে প্রতি উৎসবে প্রশ্ন জাগে মনে—কত প্রাণ হারালে তবে নিরাপদ হবে পথের গন্তব্যে?ঈদের খুশি চাই, চাই না শোকের মিছিল,চাই না আর বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যুর নির্মম দলিল।চাঁদ উঠুক আবার, উঠুক আনন্দের বারতা নিয়ে,কোনো মা যেন সন্তানের লাশ না পায় ঈদের দিনে।যাত্রাপথ হোক নিরাপদ, ফিরুক সবাই আপন নীড়ে—তবেই তো সত্যিকারের ঈদ নামবে বাংলার ঘরে ঘরে। আরও পড়ুনমায়ের হাতের রান্নাঈদের গল্প: মায়ার কোরবানি কেএসকে
Go to News Site