Collector
কাপাসিয়ায় কওমি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত | Collector
কাপাসিয়ায় কওমি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
Somoy TV

কাপাসিয়ায় কওমি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দেওবন্দী মতাদর্শের আলেমদের সংগঠন কাপাসিয়া কওমি পরিষদ-এর উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (৩০ মে) কাপাসিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপাসিয়া কওমি পরিষদের উপদেষ্টা আল্লামা মুফতি বাহাউদ্দীন আহমাদ এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরি (পীর সাহেব দেওনা) ও এলাকার বিশিষ্ট আলেম-উলামা। বক্তব্যের শুরুতে পীর সাহেব দেওনা কাপাসিয়া কওমি পরিষদকে এমন সুন্দর ও সময়োপযোগী অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও দ্বীনি দায়িত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, মাদ্রাসার ছাত্ররা নিজেদের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেবে, কুরআন শিক্ষা দেবে এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেবে। তিনি কওমি শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শেষে তিনি দেশ, জাতি ও দ্বীনি শিক্ষার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন এবং সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। প্রধান আলোচক আল্লামা মাহফুজুল হক বক্তব্যের শুরুতে কাপাসিয়া কওমি পরিষদ এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কওমি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত তিনি বলেন, বেফাকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা নিয়মিত পরিদর্শন করা হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্থানীয় ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও সহযোগিতা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আল্লামা মাহফুজুল হক আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে আলেমদের আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি আলেমদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যেন বলতে পারে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুধু গ্রহণই করে না, সমাজের কল্যাণেও অবদান রাখে। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা মুফতি বাহাউদ্দীন আহমদ মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুসলমান পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হবে। একে অপরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। অনুষ্ঠানে আল-হাইআতুল উলইয়া ও বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধাস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Go to News Site