Jagonews24
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তার ভাতিজা ও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হামলার ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, শাসকরাই খুনিতে পরিণত হয়েছে। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর সহিংসতার শিকার হওয়া দলীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন অভিষেক। এ সময় তার দিকে ডিম ও পাথর ছোড়া হয়, এমনকি তাকে চড়-ঘুষিও মারা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিষেক ব্যানার্জী এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। ঘটনার পর অভিষেক দাবি করেন, এটি ছিল বিজেপি-সমর্থিত ও পূর্বপরিকল্পিত হামলা। তিনি বলেন, দেখুন তারা আমার সঙ্গে কী করেছে। এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। এলাকায় কোনো পুলিশ ছিল না। তারা আমাকে হত্যা করতে চায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।” এদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্য বলেন, ডিম নিক্ষেপ বা হেনস্তার ঘটনায় বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গত ১৫ বছরে তৃণমূল কীভাবে রাজ্য শাসন করেছে, মানুষ তা জানে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার তৃণমূলের নেই।” তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে অহংকার ও একদলীয় আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষের ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু এ ধরনের আচরণ সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচয় নয়। আমাদের দল কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। অন্যদিকে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণের অভিযোগ তুলেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাশাপাশি একজন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না থাকাকে “ইচ্ছাকৃত অবহেলা” বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং হামলার দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সূত্র: এনডিটিভি এমএসএম
Go to News Site